বিএনপির সামনে বড় সুযোগ, বড় চ্যালেঞ্জ

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে দলটি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। জোটের শরিকদের তিনটি আসনসহ মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। আদালতের নির্দেশে স্থগিত দুটি আসনের ফল ঘোষণা বাকি; সংরক্ষিত নারী আসন যুক্ত হলে সংখ্যাটি আরও বাড়বে। দলীয়ভাবে আগেই জানানো হয়েছে—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ই হচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

Feb 13, 2026 - 15:07
বিএনপির সামনে বড় সুযোগ, বড় চ্যালেঞ্জ

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে দলটি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। জোটের শরিকদের তিনটি আসনসহ মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। আদালতের নির্দেশে স্থগিত দুটি আসনের ফল ঘোষণা বাকি; সংরক্ষিত নারী আসন যুক্ত হলে সংখ্যাটি আরও বাড়বে। দলীয়ভাবে আগেই জানানো হয়েছেবিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান- হচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ সালে চারদলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি একাই ১৯৩টি আসন পেয়েছিল; জোটের মোট আসন ছিল ২১৬। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই যুগ পর এবারের ফলাফল সেই সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সবাই জয়ী হয়েছেন। ছয়জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেনঅন্য কোনো দলে সংখ্যা নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে জয়ী হয়েছেন চারজন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-), নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-), বান্দরবান থেকে সাচিং প্রু রাঙামাটি থেকে দীপেন দেওয়ান।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো প্রবীণদের পাশাপাশি সাঈদ আল নোমান, মীর হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ ফারজানা শারমিনের মতো তরুণরাও জয় পেয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়েই সরকার পরিচালনা করা হবে।

জোটসঙ্গীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হকপরিচিত মুখগুলোও সংসদে থাকছেন।

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হয়েছে। ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।হ্যাঁপেয়েছে কোটি ৮০ লাখের বেশি, ‘নাপেয়েছে কোটি ২৫ লাখের বেশি ভোট। ফলে নতুন সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ নিতে হবে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানি পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। এসব ইস্যু নতুন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হিসেবে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা আছেস্থিরতা ধরে রাখা হবে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা।

দীর্ঘ সময় পর সংসদে অপেক্ষাকৃত বড় বিরোধী দল পাচ্ছে দেশ। ১৯৯৬ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি সদস্য নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট৭৭ সদস্য নিয়ে। তবে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা নির্বাচনে হেরেছেন, যা সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ, মধ্য, পূর্ব উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিএনপি শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গাএই আট জেলায় কোনো আসন পায়নি দলটি; মোট ৩০ আসন শূন্য। উত্তরবঙ্গ দক্ষিণ-পশ্চিমে জামায়াতের তুলনায় দুর্বলতা স্পষ্ট।

রাজধানীর ১৬ আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি জয়ী; ৬টিতে জামায়াত, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি। অতীতের নির্বাচনে সরকার গঠনকারী দল সাধারণত ঢাকায় একচেটিয়া জয় পেতএবার সে ধারা ভেঙেছে।

সব মিলিয়ে দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ জয়বিএনপির সামনে সুযোগও বড়, চ্যালেঞ্জও ততটাই।

ডালাস বার্তা প্রতিবেদক