মিউনিখে ট্রাম্পবিরোধী সুরে একাট্টা রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটরা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান ও শুল্কনীতির সমালোচনায় জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে একই সুরে কথা বলেছেন কিছু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতা।

Feb 16, 2026 - 21:27
মিউনিখে ট্রাম্পবিরোধী সুরে একাট্টা রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্পকে ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রেসিডেন্ট’ বললেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ছবি: বিবিসি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান শুল্কনীতির সমালোচনায় জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে একই সুরে কথা বলেছেন কিছু ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকান নেতা।

সম্মেলনে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ট্রাম্পেরঅপ্রত্যাশিত আচরণমোকাবিলায় ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ ধারাবাহিক অবস্থান নিতে হবে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের দৃঢ় প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রাম্প কী করতে চান তা নিয়ে বিতর্ক নয়বরং কীভাবে তা ঠেকানো যায়, সে কৌশল নিতে হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পকেসবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রেসিডেন্টআখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উনিশ শতকে ফিরিয়ে নিতে চান এবং জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের প্রভাবাধীন। তবে ট্রাম্পের নীতিই ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিশিগানের সিনেটর এলিসা স্লটকিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ সংকটে থাকায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর কতটা চাপ বাড়ানো হবে, তা স্পষ্ট নয়। এতে ইউক্রেন সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি রসিকতা নয়; এটি মিত্রদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি মানবাধিকার গণতন্ত্রভিত্তিক নতুন বৈশ্বিক কাঠামোর আহ্বান জানান।

সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিন শাহিন জানান, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন সিনেটে দ্বিদলীয়ভাবে রয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি আছে।

মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার সতর্ক করে বলেন, ‘বিশ্বাস গড়ে উঠতে প্রজন্ম লাগে, নষ্ট হতে সময় লাগে না।তিনি ইঙ্গিত দেন, কানাডাকে দূরে ঠেলে দিলে চীনের লাভ হবে।

রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রশ্নে সেখানকার ৮৫ হাজার আদিবাসীর মতামতই মুখ্যতাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের ভেতর থেকেই এমন প্রকাশ্য সমালোচনা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে বাড়তে থাকা অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান