নর্থ টেক্সাসে প্রবীণদের টার্গেট করে জালিয়াতি: দুই জুয়েলারির মালিকসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাসে প্রবীণদের টার্গেট করে চালানো একটি বড় ধরনের জালিয়াতি ও অর্থপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা বলছেন, একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের কারণে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

Feb 18, 2026 - 23:36
নর্থ টেক্সাসে প্রবীণদের টার্গেট করে জালিয়াতি: দুই জুয়েলারির মালিকসহ ৬ জন গ্রেপ্তার
কয়েক মাস নজরদারির পর দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: এনবিসি ৫

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাসে প্রবীণদের টার্গেট করে চালানো একটি বড় ধরনের জালিয়াতি অর্থপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা বলছেন, একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের কারণে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, টিলাক জুয়েলার্স এবং সামাই জুয়েলার্সকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম চলত। অভিযোগে বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা সোনা টিলাক জুয়েলার্স কিনত। পরে এর একটি অংশ সামাই জুয়েলার্সে নিয়ে গলিয়ে নতুন আকার দেওয়া হতো। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু সোনা ব্রেসলেটে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

গত মাসে অভিযানের সময় রাজ্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিলাক জুয়েলার্সে অভিযান চালায়। কয়েক মাস নজরদারির পর এই গ্রেপ্তার করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক্ও গ্রেপ্তার হওয়াদের তালিকায় আছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চুরি, সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকা এবং প্রবীণদের আর্থিক নির্যাতন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় প্রতারণার কৌশলগুলোর বর্ণনা রয়েছে। এক ঘটনায় এক ব্যক্তি ইমেইল পানতার বিরুদ্ধে পেপ্যালের বকেয়া রয়েছে বলে জানানো হয়। আরেকজনকে ফোন করে নিজেকে ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলা হয়, তিনি পরিচয় চুরির শিকার এবং অর্থপাচার মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল তদন্তের মুখে আছেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযুক্তরাফেডারেল ফৌজদারি মামলার হুমকিবাপরিচয় চুরি ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নগদ অর্থ সোনায় রূপান্তর করে কুরিয়ারের মাধ্যমে হস্তান্তরে বাধ্য করতেন। পরে সেই সোনা গলিয়ে অলংকার বানানো হতো।

বেটার বিজনেস ব্যুরো অব নর্থ সেন্ট্রাল টেক্সাসের মনিকা হর্টন বলেন, প্রতারকরা প্রায়ই সরকারি সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে জরুরি পরিস্থিতির অনুভূতি তৈরি করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মামলার ভুক্তভোগীরা একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে আছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে কিছু ভুক্তভোগীর সহায়তায় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি চক্রের পরিধি উদঘাটন করা হয়।

তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫