ফ্রিসকো সিটি কাউন্সিলে ‘ভারতীয় দখল’ বিতর্ক এখন জাতীয় ইস্যু
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে ‘ভারতীয় দখল’ অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসের পর মাস চলা প্রশ্ন–সমালোচনা এবার সিটি কাউন্সিল বৈঠকে বিস্ফোরিত হয়। কয়েকজন বক্তা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ টুপি পরে ভারতীয়–আমেরিকানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, যা উপস্থিতদের একাংশের করতালিতে সাড়া পায়।
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে ‘ভারতীয় দখল’ অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসের পর মাস চলা প্রশ্ন–সমালোচনা এবার সিটি কাউন্সিল বৈঠকে বিস্ফোরিত হয়। কয়েকজন বক্তা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ টুপি পরে ভারতীয়–আমেরিকানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, যা উপস্থিতদের একাংশের করতালিতে সাড়া পায়।
বক্তাদের কেউ কেউ প্রমাণ ছাড়াই এইচ–১বি ভিসা জালিয়াতি ও চাকরি দখলের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, দ্রুত জনসংখ্যা পরিবর্তনে শহরের ‘চরিত্র’ বদলে গেছে। তবে শহর কর্তৃপক্ষ ও ভারতীয়–আমেরিকান বাসিন্দারা এসব বক্তব্যকে বিভাজনমূলক ও বিপজ্জনক বলে নাকচ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাইরের উসকানিদাতারাই পরিস্থিতি ঘোলাটে করছেন।
কোলিন কাউন্টির সমৃদ্ধ উপশহর ফ্রিসকোর জনসংখ্যা ২০০০ সালে ছিল ৩৩ হাজার; এখন তা ২ লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে এশীয় জনগোষ্ঠীর হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালে শহরে কার্য সিদ্ধি হনুমান মন্দির প্রতিষ্ঠার পর ভারতীয় কমিউনিটির উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়। একই সময়ে টয়োটা, টি-মোবাইল, জেপি মরগান চেজ, ফেডেক্স ও এটিঅ্যান্ডটিসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আশপাশে বিনিয়োগ বাড়ায়, যা প্রযুক্তিখাতের বহু কর্মীকে আকর্ষণ করে।
ফ্রিসকোর স্কুল জেলাও শহরের সাফল্যের বড় ভিত্তি। ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে এটি টেক্সাসে ‘এ’ রেটিং পাওয়া সবচেয়ে বড় জেলা। উচ্চ এসএটি স্কোর ও কলেজে ভর্তির হার শহরটিকে অভিভাবকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এইচ–১বি ভিসা কর্মসূচি, যা বিশেষ দক্ষ পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেয়। ২০২৪ অর্থবছরে টেক্সাসে ১৭ হাজারের বেশি নতুন এইচ–১বি ভিসা অনুমোদিত হয়; ফ্রিসকোতে অনুমোদন ছিল ৯১৭টি। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আবেদনের ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের। সমালোচকেরা বলছেন, এই কর্মসূচি আমেরিকানদের চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে; তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে এ ভিসা গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর ফি ও নিয়মের মধ্য দিয়েই এটি পরিচালিত হয়।
গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সম্প্রতি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থায় নতুন এইচ–১বি আবেদন সাময়িক স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন উত্তর টেক্সাসের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
বিতর্ক আন্তর্জাতিক মনোযোগও কেড়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া ফ্রিসকোর বৈঠককে এইচ–১বি ইস্যুর মুখোমুখি সংঘর্ষ হিসেবে তুলে ধরে।
তবে ফ্রিসকোর মেয়র জেফ চেনি বৈঠকে বলেন, ‘ফ্রিসকোকে যারা বাড়ি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তারা এখানে নিরাপদ ও স্বাগত বোধ করবেন—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’ স্থানীয় ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতারাও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী সিটি কাউন্সিল বৈঠকেও এ ইস্যুতে আবার আলোচনা হতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন ইস্যু যখন তীব্র, তখন ফ্রিসোর এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়, সুযোগ ও সহাবস্থানের বিতর্ককে আরও সামনে এনে দিল।
তথ্যসূত্র: ডালাস মর্নিং নিউজ