গোপনে বিস্ফোরণ পরীক্ষা, নতুন পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার গড়ছে চীন: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত একটি গোপন বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—বেইজিং কি তার পারমাণবিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে?

Feb 21, 2026 - 13:25
গোপনে বিস্ফোরণ পরীক্ষা, নতুন পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার গড়ছে চীন: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
২০২০ সালের জুনে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লোপ নুর পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ছবি: সিএনএন

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত একটি গোপন বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছেবেইজিং কি তার পারমাণবিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে?

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ২০২০ সালের জুনে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লোপ নুর পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। ১৯৯৬ সাল থেকে স্বঘোষিত পরীক্ষাবিরতি থাকা সত্ত্বেও এই পরীক্ষা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মার্কিন কর্মকর্তারা সম্প্রতি পরীক্ষার তারিখ, স্থান ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও জানান, ওই ঘটনার মাত্রা ছিল .৭৫, যাএকক বিস্ফোরণ’-এর ইঙ্গিত দেয়। তাঁর দাবি, তথ্যগুলো খনি বিস্ফোরণ বা ভূমিকম্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং পারমাণবিক পরীক্ষার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন আর্মস কন্ট্রোলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমান ডিনানোও।

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীন এমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে, যা একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ক্ষুদ্রাকৃতির ওয়ারহেড নিক্ষেপ করতে সক্ষম। পাশাপাশি স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকেও নজর দিচ্ছে বেইজিংযা অতীতে তারা উৎপাদন করেনি। তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংকটেও এসব অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের পারমাণবিক নীতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। তার দাবি, চীননো-ফার্স্ট-ইউজনীতি মেনে চলে এবং পরীক্ষাবিরতি বজায় রেখেছে।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা র২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তার পারমাণবিক বাহিনী সম্প্রসারণ আধুনিকায়ন করছেযার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিযোগিতা একটি প্রধান কারণ।

বর্তমানে বিশ্বে সর্বাধিক পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র হলেও, চীন দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন চাইছে, ভবিষ্যতের যে কোনো নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তবে বেইজিং এখনো সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তথ্যসূত্র: সিএনএন