জ্বালানি সংকটে এশিয়ায় ‘করোনা পরিস্থিতি’র আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় এশিয়াজুড়ে ‘করোনা-সদৃশ’ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রভাবেই এই সংকট তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় এশিয়াজুড়ে ‘করোনা-সদৃশ’ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রভাবেই এই সংকট তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে পেট্রল পাম্পে জ্বালানি ঘাটতির খবর মিলছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ করোনার সময়কার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বাড়ি থেকে কাজ, অফিস সময় কমানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্পখাতে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে। রাজধানী দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
চীন জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, তবে তাদের মজুত তুলনামূলক স্থিতিশীল। জাপান সরকার প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ইয়েন ভর্তুকি ঘোষণা করেছে এবং কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল জ্বালানি সাশ্রয়ে ভ্রমণ কমানো ও বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমাতে নির্দেশনা দিয়েছে। ফিলিপাইনে জরুরি জ্বালানি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ, শ্রীলঙ্কায় সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি এবং সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচি চালু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট