মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেলের বাজারে অস্থিরতা, শেয়ারবাজারে ধস
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার জরুরি বৈঠকে বসছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার জরুরি বৈঠকে বসছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা।
যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসসহ বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন। সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করাই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারে ওঠে। পরে তা প্রায় ১০৭ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড প্রায় ১০৪ ডলারের আশেপাশে লেনদেন হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-৭ বৈঠকে জরুরি তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)-এর সমন্বয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর এটিই হবে প্রথম উদ্যোগ।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক প্রায় ১.৫ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ও ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক প্রায় ২.৫ শতাংশ পড়ে গেছে। এশিয়ায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫.২ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ শতাংশ কমেছে। আতঙ্কিত বিক্রি ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় সাময়িকভাবে ‘সার্কিট ব্রেকার’ চালু করতে হয়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের একটি প্রধান তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ আদনান মাজারেই বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিতই তেলের দামে এই বড় উল্লম্ফনের কারণ।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর হলে তেলের দাম দ্রুতই কমে আসবে। তার ভাষায়, ‘বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এটি সামান্য মূল্য।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি