হরমুজে অবরোধ ‘পুরোপুরি কার্যকর’, তবু ইরানের জন্য কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একইসঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।

Apr 15, 2026 - 13:26
হরমুজে অবরোধ ‘পুরোপুরি কার্যকর’, তবু ইরানের জন্য কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুরোপুরি কার্যকরের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। ছবি: আনাদোলু

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একইসঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।

মঙ্গলবার রাতে সেন্টকম জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অবরোধ সম্পন্ন করা হয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রেখে ইরানের সব সমুদ্রপথ বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য নির্ভর করে হরমুজ প্রণালির ওপর, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ১০৯. বিলিয়ন ডলার। ‘'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’–এর গবেষক মিয়াদ মালেকি হিসাব দিয়েছেন, এই অবরোধে ইরানের দৈনিক ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, অবরোধ কার্যকরে ১০ হাজারের বেশি সেনা, ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি; অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

তবে সামুদ্রিক বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠানউইন্ডওয়ার্ড'  জানিয়েছে, সীমিত আকারে কিছু জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তাদের তথ্যে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত একটি চীনা মালিকানাধীন ট্যাংকারসহ অন্তত দুটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান নিজেই হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্ব জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

এদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকেবিপজ্জনক দায়িত্বজ্ঞানহীনবলে সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে . শতাংশে নামিয়ে এনেছে। সতর্ক করে সংস্থাটি বলেছেতেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে স্থির থাকতে পারে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে নেমেছে, আর ব্রেন্ট ক্রুডও সামান্য কমেছে।

সামগ্রিকভাবে, কঠোর সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক দরজা খোলা রেখে দ্বিমুখী কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।

তথ্যসূত্র: সিএনবিসি