লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ল

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

Apr 24, 2026 - 01:21
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ল
প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত ছিল। ছবি: আনাদোলু

লেবানন ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইতার যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তাদের প্রথম বৈঠকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেই বিরতি বাড়ানো হলো। যদিও প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত ছিল। বুধবার এক সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে বলেন, “চমৎকার বৈঠক হয়েছে। হিজবুল্লাহর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করবে।

তবে ইরান-সমর্থিত লেবাননের রাজনৈতিক-সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই বৈঠকে অংশ নেয়নি। তারা ইসরায়েলি বাহিনীকেদখলদারআখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আতিথ্য দেওয়ার আশা করছেন তিনি। তার মতে, তিন সপ্তাহের এই বিরতির মধ্যে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে এবং বছরই একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধবিরতির ফলে সহিংসতা কিছুটা কমলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে একটি স্বঘোষিতবাফার জোন দখলে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে, আলোচনার পরবর্তী ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আটক লেবাননি নাগরিকদের মুক্তি এবং স্থলসীমান্ত নির্ধারণের বিষয়গুলো সামনে আনতে চায় বৈরুত।

তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে ভিন্ন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স