প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকেরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেড
দীর্ঘ আন্দোলন ও কর্মবিরতির পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বেতন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। সরকারের এ প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর সোমবার রাতে শিক্ষকরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ আন্দোলন ও কর্মবিরতির পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বেতন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। সরকারের এ প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর সোমবার রাতে শিক্ষকরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা এই সিদ্ধান্ত জানান। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ছিল দশম গ্রেড, তবে সরকার ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার নিশ্চয়তা দিয়েছে।’
তবে সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক। রাতেই শহীদ মিনারে থাকা সাধারণ শিক্ষকেরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখান এবং দশম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।
তিন দিন ধরে চলা অবস্থান কর্মসূচি ও সারাদেশব্যাপী কর্মবিরতির মধ্যেই এই আশ্বাস আসে। আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল—সহকারী ও প্রধান শিক্ষকদের বেতন যথাক্রমে দশম গ্রেডে উন্নীত করা, পুলিশের বাধা ও হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি, এবং পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাবটি জাতীয় পে কমিশন ২০২৫–এর বিবেচনায় আছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান, যার মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। ১১তম গ্রেড কার্যকর হলে শুরু হবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। এতে বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৮৩১ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্থিক দিক থেকে পার্থক্য কম হলেও এই পদোন্নতি শিক্ষকদের মর্যাদা ও মনোবল বাড়াবে।
তথ্যসূত্র: সমকাল