এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেলের ইমেইল হ্যাক করেছে ইরান-ঘনিষ্ঠ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ও ছবি হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংযুক্ত একটি হ্যাকার গ্রুপ। শুক্রবার ‘হানদালা হ্যাক টিম’ নামে পরিচিত গ্রুপটি অনলাইনে বিভিন্ন নথি ও ছবি প্রকাশ করে এ দাবি জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ও ছবি হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংযুক্ত একটি হ্যাকার গ্রুপ। শুক্রবার ‘হানদালা হ্যাক টিম’ নামে পরিচিত গ্রুপটি অনলাইনে বিভিন্ন নথি ও ছবি প্রকাশ করে এ দাবি জানায়।
গ্রুপটি এক বার্তায় বলে, প্যাটেল এখন ‘সফলভাবে হ্যাক হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায়’ যুক্ত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও সিএনএন নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ হ্যাকের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি এফবিআই বা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কিছু ইমেইল এক দশকেরও বেশি পুরোনো। এসব বার্তায় প্যাটেলের ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাকে একটি পুরোনো স্পোর্টস কারের পাশে, হাতে সিগার নিয়ে এবং আয়নার সামনে রামের বোতলসহ দেখা যায়।
২০২৫ সালে এফবিআইয়ের নবম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন প্যাটেল। তবে তার নেতৃত্ব শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ব্যক্তিগত ভ্রমণ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটিকে ব্যবহার করেছেন।
নিজেদের ‘প্রো-প্যালেস্টাইন হ্যাকিং ভিজিল্যান্টি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হানদালা হ্যাক টিম জানায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাবে একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই সাইবার হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী বলে দাবি করা হয়।
পশ্চিমা গবেষকদের মতে, গ্রুপটি ইরানের সাইবার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর আগে একই গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাইকার’–এর ওপর সাইবার হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, এই হ্যাকাররা ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কাজ করে। তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করতে কিছু ওয়েবসাইট জব্দ করা হলেও, সংশ্লিষ্ট সাইবার অপারেটররা হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে এবং অনলাইনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাইবার যুদ্ধের নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন