ইকুয়েডরের কারাগারে সহিংসতায় ৩১ বন্দির মৃত্যু
ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাচালার এক কারাগারে অন্তত ৩১ বন্দির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দেশটির কারা প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার (৯ নভেম্বর) ভোরে এল ওরো প্রদেশের এ কারাগারে ভয়াবহ সহিংসতার পর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাচালার এক কারাগারে অন্তত ৩১ বন্দির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দেশটির কারা প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার (৯ নভেম্বর) ভোরে এল ওরো প্রদেশের এ কারাগারে ভয়াবহ সহিংসতার পর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্যাং সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে চার বন্দি নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হন। কয়েক ঘণ্টা পর নিরাপত্তারক্ষীরা নতুন করে সহিংসতার খবর পেয়ে কারাগারের তৃতীয় তলায় গিয়ে ঝুলন্ত মরদেহগুলো দেখতে পান।
ইকুয়েডরের কারা প্রশাসন (এসএনএআই) জানায়, বন্দিদের নতুন একটি কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। একই কারাগারে গত সেপ্টেম্বরে আরেকটি সংঘর্ষে ১৩ বন্দি ও একজন প্রহরী নিহত হয়েছিলেন।
অতিরিক্ত ভিড় ও গ্যাং নিয়ন্ত্রণের কারণে ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে কারাগারে সহিংসতায় ৪০০-র বেশি বন্দি প্রাণ হারিয়েছেন।
ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা কারাগারের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং সদস্যদের আলাদা রাখার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও বহুদিন ধরে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা এ কারাগারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি করে আসছেন।
চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নতুন একটি কারাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন। সান্তা এলেনা প্রদেশে নির্মিত ‘এল এনকুয়েন্ত্রো’ নামের কারাগারটি নভেম্বরের শেষের দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইকুয়েডরের কারাগারে দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী গ্যাং নেটওয়ার্ক সক্রিয়। এর মধ্যে ‘লস লোবোস’ ও ‘লস চনেরোস’ গোষ্ঠীকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি