‘হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে’ ইরানের খারগ দ্বীপে রাতভর হামলা

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলায় দ্বীপটির একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা, নৌঘাঁটি, হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Mar 14, 2026 - 00:13
‘হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে’ ইরানের খারগ দ্বীপে রাতভর হামলা
ইরানের খারগ দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলায় দ্বীপটির একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা, নৌঘাঁটি, হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটির সূত্র বলছে, দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। হামলার পর ইরানের সামরিক সদর দপ্তর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছেখারগ দ্বীপের তেল স্থাপনায় আঘাত এলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, অঞ্চলের কোনো তেল স্থাপনা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সেটিও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী দ্বীপটির সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তবে তেল অবকাঠামো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খারগ দ্বীপকে ইরানেররাজমুকুট রত্নবলা হয়দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির টার্মিনাল এখানেই। দ্বীপটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, ইরান এই দ্বীপ থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সেই কারণেই সেখানে ভারী বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্নযদি খারগ দ্বীপে হামলাই হরমুজ প্রণালিমুক্তকরার উপায় হয়, তাহলে এত দিন পরে কেন ধরনের অভিযান চালানো হলো।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব কাতারের কিছু স্থাপনায় বিক্ষিপ্ত হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান যদি এখন বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তেহরান বলছে, তারা এত দিন ধৈর্য দেখিয়েছে। তবে তেল স্থাপনায় হামলা হলে সেই ধৈর্যের অবসান ঘটবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় খারগ দ্বীপে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: পলিটিকো