শ্রেণিকক্ষে কমবে স্ক্রিন টাইম, বাড়বে বই ও খেলাধুলা: নতুন সিদ্ধান্ত রিচার্ডসন আইএসডির
আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ‘প্যাসিভ স্ক্রিন টাইম’ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিচার্ডসন আইএসডি। এর বদলে বাড়ানো হবে বই পড়া, কাগজ-কলমে কাজ এবং শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ।
আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ‘প্যাসিভ স্ক্রিন টাইম’ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিচার্ডসন আইএসডি। এর বদলে বাড়ানো হবে বই পড়া, কাগজ-কলমে কাজ এবং শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) অনুষ্ঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভায় এ পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরে জেলা কর্তৃপক্ষ। নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দিনে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহার করতে পারবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ মিনিট। আর সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতি ক্লাসে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন অ্যাপে বাধ্যতামূলক সময় ব্যয়ের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবারে আইপ্যাডে ‘ফ্রি টাইম’ দেওয়ার মতো প্রযুক্তিনির্ভর পুরস্কার ব্যবস্থাও আর রাখা হবে না।
ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্টের পরিবর্তে বাড়ানো হবে কাগজ-কলমে কাজের পরিমাণ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সময়ের বিরতি ও শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ রাখা হবে। শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল স্ক্রিনের বদলে ব্যবহার করা হবে ছাপানো বই।
এই পরিবর্তনের পেছনে অভিভাবকদের উদ্বেগ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মনোযোগ কমছে এবং সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এর আগে ২০২২ সালে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছিল রিচার্ডসন আইএসডি। সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনাইটেড স্কুল ডিস্ট্রিক্টও শ্রেণিকক্ষে স্ক্রিন টাইম সীমিত করার উদ্যোগ নেয়।
রিচার্ডসন আইএসডি’র সুপারিনটেনডেন্ট ট্যাবিথা ব্র্যানাম বলেন বলেন, ‘প্রযুক্তিকে কোনোভাবেই পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়—এ বিষয়টি আমরা স্পষ্ট করেছি।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। তবে শুধুমাত্র নিষ্ক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে সময় কাটানো মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতোই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বেলর ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. ফিল নিকোলসের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এর অনেক কিছুই পরে যাচাই-বাছাই ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে থেকে গেছে।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই নতুন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ব্রেন্টফিল্ড এলিমেন্টারির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কিংসলে রাইট বলেন, অতিরিক্ত বিরতি বা খেলার সুযোগ থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে। অন্যদিকে প্রেইরি ক্রিক এলিমেন্টারির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উইন হোয়াইটহেডের ভাষায়, ‘কাগজে-কলমে কাজ করলে চিন্তাগুলো দ্রুত প্রকাশ করা সহজ হয়।’
রিচার্ডসন আইএসডি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। তবে একই সঙ্গে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রযুক্তি-সংক্রান্ত শিক্ষানীতিও অনুসরণ করা হবে।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর