মেসিকে নিয়ে আয়োজনে কলকাতায় নজিরবিহীন অরাজকতা
লিওনেল মেসিকে সরাসরি দেখা যাবে বলে টিকিট কেটে কলকাতার যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন হাজারো দর্শক। একটি টিকিটের দাম ছিল সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৮০০ থেকে ১১ হাজার ৮০০ রুপি! এত টাকা খরচ করেও যদি মেসিকে দেখতে না পাওয়া যায়, তখন কার না খারাপ লাগে!
লিওনেল মেসিকে সরাসরি দেখা যাবে বলে টিকিট কেটে কলকাতার যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন হাজারো দর্শক। একটি টিকিটের দাম ছিল সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৮০০ থেকে ১১ হাজার ৮০০ রুপি! এত টাকা খরচ করেও যদি মেসিকে দেখতে না পাওয়া যায়, তখন কার না খারাপ লাগে!
সেই ‘খারাপ লাগা’টাই একসময় রূপ নিল অরাজকতায়। যুব ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়ল দর্শক। পোস্টার-প্যান্ডেল নিয়ে শুরু হলো টানাটানি। গ্যালারি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাঠে এসে পড়ল গ্যালার আসনের প্লাস্টিকের অংশ। মাঠের মধ্যে থাকা তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হলো। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসিকে ঘিরে সব আয়োজন ভেস্তে যায়।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোটেল থেকে যুব ভারতীতে আসেন মেসি। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে রাখে ৭০-৮০ জন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন ফুটবল কর্মকর্তা, আয়োজকেরাও। ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ধারণেও ব্যস্ত হয়ে পড়েন কেউ কেউ। তাঁরা মেসিকে ঘিরে থাকায় মাঠে গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা আড়ালেই থেকে যান মেসি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দর্শকেরা। সমস্বরে স্লোগানও তোলেন—‘উই ওয়ান্ট মেসি’।
দর্শকদের কথা ভেবে এ সময় মেসির কাছ থেকে সবাইকে সরে যেতে মাইকে অনুরোধও করা হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা! আগের মতোই তারা মেসিকে ঘিরে রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্যালারির দর্শকেরা। তাঁরা ভাঙচুর শুরু করেন। ভাঙা চেয়ার ও বোতল ছুড়ে মারেন মাঠে। একসময় ফেন্সিং টপকেও মাঠে ঢুকে পড়ে হাজার দুয়েক দর্শক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একসময় পুলিশ লাঠিপেটা করলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এমন অরাজক পরিস্থিতির শুরুর দিকে মাঠ ছেড়ে চলে যান মেসি।
পরিকল্পনা ছিল, যুব ভারতীতে ঢোকার পর গ্যালারির চারপাশে চক্কর দেবেন মেসি, অংশ নেবেন একটি প্রদর্শনী ম্যাচে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানেরও মাঠে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই হয়নি।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী কলকাতা থেকে হায়দরাবাদের উদ্দেশে বিমান ধরতে যখন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মেসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল, তখন তাঁদের বিদায় জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন মেসিকে ভারত সফরে নিয়ে আসার মূলে থাকা শতদ্রু দত্ত। বিমানবন্দরেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। টাকা ফেরত দেওয়া না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: এএফপি