ফোর্ট ওয়ার্থে ছুটির দিনে গাড়িতে ধারাবাহিক অগ্নিসংযোগ, কিশোর আটক
ক্রিসমাস ইভ থেকে নববর্ষের দিন পর্যন্ত ফোর্ট ওয়ার্থের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এখন পুলিশের হেফাজতে।
ক্রিসমাস ইভ থেকে নববর্ষের দিন পর্যন্ত ফোর্ট ওয়ার্থের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এখন পুলিশের হেফাজতে।
ফোর্ট ওয়ার্থ ফায়ার ও পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মোট পাঁচটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে ইভান বান্ডা নামের ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বয়স কম হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের নথি অনুযায়ী, বান্ডার বিরুদ্ধে পাঁচটি অগ্নিসংযোগ, একটি সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী হুমকি এবং শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফোর্ট ওয়ার্থের প্রধান ফায়ার তদন্তকারী ডেভিড জোনস জানান, শুরুতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল, কারণ কোনো লাইসেন্স প্লেটের সূত্র পাওয়া যায়নি। পরে আশপাশের বাসিন্দাদের বিভিন্ন সিসিটিভি ও নজরদারি ভিডিও বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের পথ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে সন্দেহভাজনের বাড়ির আশপাশে নজরদারি শুরু হয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সোয়াট দলের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করা হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, পাঁচটি অগ্নিসংযোগই রাত ১১টা থেকে ভোর ২টার মধ্যে ঘটে। ঘটনাস্থলগুলো ফক্স রান পার্কের আশপাশে এবং সবগুলোই সন্দেহভাজনের বাড়ি থেকে দেড় মাইলের মধ্যে। অধিকাংশ গাড়ি রাস্তার ধারে কোণার প্লটে পার্ক করা ছিল, যাতে বাড়ি থেকে সরাসরি দেখা না যায়।
ডেভিড জোনস জানান, প্রায় সব ঘটনায় একই ধাঁচ দেখা গেছে। জানালা ভেঙে গাড়ির ভেতরে ঢুকে একই ধরনের দাহ্য তরল ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়।
অগ্নিসংযোগের শিকারদের একজন মিশেল ব্যারেরা জানান, ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতের পর তাঁর ছেলের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ও জামাই গ্যারেজে ছিলেন। হঠাৎ জানালা দিয়ে আগুন দেখতে পান, তারপর বিকট শব্দ শুনি।’
ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশপ্রধান এডি গার্সিয়া বলেন, ধারাবাহিক এই অপরাধে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিরনি বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীরা সময়ের সঙ্গে আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক ও সক্রিয় হওয়া জরুরি।’ গার্সিয়া আরও জানান, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসী এখন কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর