ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলা নিয়ে গভীর তদন্তে পেন্টাগন
ইরানে মেয়েদের এক স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। হামলাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক তথ্য সামনে আসার পর তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
ইরানে মেয়েদের এক স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। হামলাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক তথ্য সামনে আসার পর তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের মিনাব এলাকায় অবস্থিত শাজারেহ তাইয়্যেবেহ নামের একটি মেয়েদের স্কুলে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলাটি ঘটে। ওই দিনই ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলা শুরু হয়েছিল।
ইরান দাবি করেছে, হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। যদি তদন্তে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানির অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। তিনি জানান, তদন্তটি পরিচালনা করবেন এমন এক জেনারেল কর্মকর্তা যিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সেন্ট্রাল কমান্ডের বাইরে থেকে নিয়োগ পেয়েছেন, যাতে তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি প্রশাসনিক সামরিক তদন্ত—যাকে ‘১৫-৬’ তদন্ত বলা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য, নথি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
প্রাথমিক তথ্য বলছে, লক্ষ্য নির্ধারণে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কারণে স্কুল ভবনটিকে পাশের একটি সামরিক স্থাপনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তে পাওয়া ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হামলায় সম্ভবত টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল।
ঘটনার পর প্রথমদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন, হামলাটি হয়তো ইরান নিজেই চালিয়ে থাকতে পারে। পরে তিনি জানান, তদন্তে যে ফলাফল আসবে তা মেনে নেওয়া হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বহু বছর ধরেই অনলাইনে স্কুলটির কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য প্রকাশিত হয়ে আসছে। স্যাটেলাইট ছবিতেও অন্তত ২০১৮ সাল থেকে ভবনটি একটি স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু, রয়টার্স