যুদ্ধের ভয়াবহতায় তড়িঘড়ি করে ইসরায়েল ত্যাগ নর্থ টেক্সাসের তীর্থযাত্রীদের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ইসরায়েল সফর সংক্ষিপ্ত করে আগেভাগেই দেশে ফিরেছেন নর্থ টেক্সাসের একদল তীর্থযাত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ইসরায়েল সফর সংক্ষিপ্ত করে আগেভাগেই দেশে ফিরেছেন নর্থ টেক্সাসের একদল তীর্থযাত্রী।
নিক কলিন্স নামে এক ব্যক্তি টেক্সাসের রকওয়াল থেকে একটি দল নিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলে যান। সফরের শুরুতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতা পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
কলিন্স জানান, সফরটি মূলত ধর্মীয় উপাসনা, উপাসনার জন্য আধ্যাত্মিক সময় কাটানো এবং পারস্পরিক যোগাযোগের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়।
প্রথমে তারা সফর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দ্রুত উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দলের অনেকের পরিবার ও সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে দেশে ফেরাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কলিন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের ভ্রমণ সংস্থা ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পারবে না জানিয়ে কেবল একটি ফোন নম্বর দিয়ে দেয়। ফলে নিজেকেই রাতারাতি ‘ট্রাভেল এজেন্ট’ হয়ে বিকল্প ফ্লাইট খুঁজতে হয়।
অন্য অনেক যাত্রীর মতো তারাও পূর্ণ বুকিং ও অত্যধিক দামের সমস্যায় পড়েন। অনেক ফ্লাইটের টিকিটের দাম সাত হাজার ডলার পর্যন্তও ওঠে যায়। শেষ পর্যন্ত দলটি ইসরায়েল থেকে বের হয়ে মিসরে যায়। সেখানে একটি হোটেলে অবস্থান করে তারা যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট পান।
সব বাধা পেরিয়ে শনিবার তারা টেক্সাসে পৌঁছান। যদিও দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কলিন্স, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া মানুষদের কথা ভোলেননি তিনি।
তার ভাষায়, যুদ্ধে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যেন প্রাণহানি যতটা সম্ভব কম হয়—সেজন্য তারা প্রার্থনা করছেন। আগামী বছর আবারও ইসরায়েলে তীর্থযাত্রার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর