জাতি ও লিঙ্গ বিষয়ে নতুন আইন: টেক্সাসের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স বাতিল-সংশোধন
জাতি ও লিঙ্গসংক্রান্ত নতুন রাজ্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে টেক্সাসজুড়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক কোর্স বাতিল করা হয়েছে, আবার অনেক কোর্সে জাতি ও লিঙ্গ বিষয়ক আলোচনা সীমিত বা বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতি ও লিঙ্গসংক্রান্ত নতুন রাজ্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে টেক্সাসজুড়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক কোর্স বাতিল করা হয়েছে, আবার অনেক কোর্সে জাতি ও লিঙ্গ বিষয়ক আলোচনা সীমিত বা বাদ দেওয়া হয়েছে।
টেক্সাস ট্রিবিউন ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে শতাধিক পরিবর্তন কার্যক্রম চলছে। শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের সংশোধন হচ্ছে।
টেক্সাস এ অ্যান্ড এম–এর অধ্যাপক ড. লিওনার্ড ব্রাইট বলেন, এই পরিবর্তন উচ্চশিক্ষায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের শিক্ষাদান কৌশল ও বিষয়বস্তু এক পাশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
ড. ব্রাইট বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি করা। যদি কেবল একটি দৃষ্টিভঙ্গিই পড়ানো হয়, সেটাই বেশি উদ্বেগের। ভিন্ন মত থাকলে শিক্ষার্থীরা শেখার সুযোগ পায়, আর সেখানেই আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
এই পরিবর্তনের পেছনে থাকা নতুন আইনটির প্রণেতা ব্র্যান্ডন ক্রাইটন বর্তমানে টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের চ্যান্সেলর। তিনি জানিয়েছেন, পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে সেগুলো কলেজ-পরবর্তী কর্মজীবনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে।
ক্রাইটনের ভাষ্য, কোন কোর্স ডিগ্রি, লাইসেন্স বা নির্দিষ্ট সনদ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং কোনগুলো বাস্তব মূল্য যোগ করে—তা যাচাই করেই পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা জেন্ডার স্টাডিজ পড়তে আগ্রহী, তাদের অন্য কোনো মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খুঁজে নিতে হবে।
এই পাঠ্যক্রম সংস্কার শুরু হয়েছে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম–এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্ক এ. ওয়েলশ থার্ডের পদত্যাগের পরপরই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শিশু সাহিত্য বিষয়ক এক ক্লাসে গোপনে ধারণ করা ভিডিওকে কেন্দ্র করে এক অধ্যাপককে বরখাস্ত করার ঘটনায় তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।
এমন প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহেই টেক্সাসজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন সেমিস্টার শুরু হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, উচ্চশিক্ষা নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, টেক্সাস এ অ্যান্ড এম, টেক্সাস টেক ও টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটিসহ বড় বিশ্ববিদ্যালয় সিস্টেমগুলোর একাধিক চ্যান্সেলরই সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫