ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান, ‘পূর্ণ বিজয়ের’ জন্য লড়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ বিজয়’ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান চলবে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবিও সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ বিজয়’ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান চলবে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবিও সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি বা ‘গঠনমূলক আলোচনা’ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা পর্যালোচনায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, চলমান সংঘাতের সমাধানে অর্থবহ আলোচনার আয়োজনে তারা প্রস্তুত।
তবে কাদের সঙ্গে আলোচনা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন, আর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে আসেননি। এদিকে সম্ভাব্য আলোচক হিসেবে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ঘুরলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মাঠ পর্যায়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা বেড়েছে—সৌদি আরব ২০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, বাহরাইন সতর্কতা জারি করেছে এবং কুয়েত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘ সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সময়ে ইরানে ‘শত্রুপক্ষের পক্ষে প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়ে লিতানি নদী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোও সক্রিয় হয়েছে। ব্রিটিশ বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ‘এইচএমএস ড্রাগন’পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় তেলের দাম সাময়িক কমলেও পরে আবার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সংঘাতের কারণে স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ এই জলপথ রক্ষা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট