ট্যাপের পানি থেকে ৯৮% মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে পারে শজনে বীজ

শজনে গাছ বাংলাদেশে কে না চেনে! পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ার কারণেই কি না, অনেকেই এটিকে ‘মিরাকল ট্রি’ বলে থাকেন। এই শজনে এবার নতুন এক কারণে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে বীজের নির্যাস ব্যবহার করে ট্যাপের পানি থেকে প্রায় ৯৮ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করা সম্ভব।

May 3, 2026 - 14:15
ট্যাপের পানি থেকে ৯৮% মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে পারে শজনে বীজ
পানি পরিশোধনে শজনে বীজের নির্যাসকে প্রচলিত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বা ফিটকিরির বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

শজনে গাছ বাংলাদেশে কে না চেনে! পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ার কারণেই কি না, অনেকেই এটিকেমিরাকল ট্রিবলে থাকেন। এই শজনে এবার নতুন এক কারণে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে বীজের নির্যাস ব্যবহার করে ট্যাপের পানি থেকে প্রায় ৯৮ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্য ব্রাজিলের একদল গবেষক এই গবেষণা পরিচালনা করেন। চলতি মাসে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে শজনে বীজ নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, শজনে বীজের নির্যাস পানিতে থাকা অতিক্ষুদ্র কণাগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, ফলে সেগুলো সহজেই ফিল্টার করে আলাদা করা যায়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যার আকার এক ইঞ্চির ২৫ হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৪ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৮৩ শতাংশ ট্যাপের পানির নমুনায় এই কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পানি খাদ্যের মাধ্যমে এসব কণা মানবদেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, রক্তনালি প্রজনন অঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে জমা হতে পারে।

গবেষণাটির অন্যতম লেখক ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গন আলভেস দোস রেইস। তিনি জানান, গবেষণায় ব্যবহৃত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলোর আকার ছিল মানুষের চুলের পুরুত্বের চার ভাগের এক ভাগ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শজনে বীজের নির্যাস এসব কণার প্রায় ৯৮ দশমিক শতাংশ পর্যন্ত অপসারণ করতে সক্ষম।

গবেষকেরা আরও বলেন, পানি পরিশোধনে শজনে বীজের নির্যাসকে প্রচলিত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বা ফিটকিরির বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে শজনের ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হলোএতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কারণ অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট ব্যবহার করলে স্নায়বিক জটিলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য প্রাকৃতিক এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন