বাংলাদেশের ফুটবলে হামজা-উন্মাদনা
এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া তারকা কে? এই প্রশ্নে এখন একটাই নাম হামজা চৌধুরী।
এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া তারকা কে? এই প্রশ্নে এখন একটাই নাম হামজা চৌধুরী।
বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া তারকা কে, তা নিয়ে বির্তক থাকতে পারে। এই প্রশ্নে কেউ বা সাবেক ফুটবলার কাজী সালাউদ্দীনের নাম বলবেন, কেউবা বলবেন জাতীয় ক্রিকেট দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কথা। কিন্তু এই সময়ে মাঠে খেলছেন, আর তার দিকে সবাই তাকিয়ে আছেন-এমন কাউকে বেছে নিতে বললে একটাই নাম হামজা চৌধুরী।
লেস্টার সিটির এই তারকা ফুটবলার গত মার্চে বাংলাদেশের জার্সি প্রথম গায়ে চড়ানোর পর তার তারকাখ্যাতি কাজে লাগাতে দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। এই যে এবার নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্য ঢাকায় এসেছেন-এর মধ্যেই তাকে শুভেচ্ছাদ্যুত ঘোষণা করেছে এক টেলিকম প্রতিষ্ঠান।
তার মানের ফুটবলার শুধু বাংলাদেশ কেন, দক্ষিণ এশিয়াতেই নেই। এখন নামীদামি ব্র্যান্ডও তাকে ব্যবহার করতে উন্মুখ। দেড় বছর আগেও সেই আগ্রহের অনেকটা জুড়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে ভালো-খারাপ মিশিয়েই সাকিবকে নিয়ে আলোচনা হতো।
হামজা সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। শুদ্ধতার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন নিজের ক্লিন ইমেজে। এসব মাঠের ফুটবল যে তাঁর কাছে বেশি প্রাধান্য, সেটাও বোঝালেন আরেকবার। এবার ঢাকায় পা রাখার পর বললেন, ‘মানুষের ভালোবাসা পেলে এখনো অবাস্তব লাগে। কীভাবে দেশের পরিস্থিতি উন্নত করতে পারি, সেটাই মূল বিষয়। সেই উন্নতিতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখাই বাংলাদেশের হয়ে খেলার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের সঙ্গে শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখানে আসাটা উপভোগ করি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করতে।’
হামজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় দল যেভাবে আলোচনায় থাকছে, তা অনুপ্রাণিত করছে অন্য ফুটবলারদেরও। যেমনটা বললেন দলের অন্যতম তারকা ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন, ‘হামজা ভাই আমাদের অনেক পেশাদার এক ফুটবলার। এগুলো আমাদের কাছে অনেক ভালো লাগে। সে আসার পর থেকেই এখন পর্যন্ত ব্যস্ত। এখন এগুলো আমাদের জন্য অনেক ভালো।
সতীর্থ ফুটবলাররাই যখন হামজায় অনুপ্রাণিত, তখন হামজা-উন্মাদনা তো সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজ করবেই! সেটা সেটা কেমন, তা বুঝে নিতে পারেন এই তথ্য-১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিট ছাড়ার পর মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট উধাও!
যার আগমনে বাংলাদেশ ফুটবলে এই বাকবদল, সেই হামজার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ফ্রেমবন্দী করতে লেস্টার সিটির এক ভিডিও প্রোডিউসার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা সম্প্রতি ঢাকা এসেছেন। হামজাদের অনুশীলনেওে একদিন দেখা গেল তাদের। কথা প্রসঙ্গে লেস্টার সিটি থেকে আসা ভিডিও প্রোডিউসার ড্যানিয়েল ট্যাগেট বলেন, ‘সম্প্রতি ও (হামজা) ইংল্যান্ডের জাতীয়তা বদলে বাংলাদেশের হয়ে খেলছে। সেটারই একটা প্রামাণ্যচিত্র বানাচ্ছি। ইংল্যান্ডে গিয়ে আরও ভিডিও বানাব। এরপর এডিটিং আছে তাই প্রকাশ পেতে কয়েক মাস লাগবে।’
হামজার জনপ্রিয়তা বর্তমানে দেশের যেকোনো ক্রীড়াবিদের মধ্য সবচেয়ে বেশি। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই তাঁকে ঘিরে ধরছেন সমর্থকেরা। হামজার এমন জনপ্রিয়তা প্রত্যাশা করেননি ট্যাগেট, ‘বাংলাদেশে সে কতটা জনপ্রিয়—এটা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। হামজা বলেছিল আগে আমাকে। কিন্তু এতটা হবে তা আমি ভাবিনি। ম্যাচের সময় হয়তো আরও বাড়ব। হামজা বলেছে, ম্যাচের সব টিকিট নাকি সোল্ড আউট।’
জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচে মাঠের গ্যালারি এখ পূর্ন থাকছে সে তো হামজার কারণেই। ফুটবলার রাকিব বললেন, ‘হ্যাঁ, এটা তো আপনি দর্শক দেখলেই বুঝবেন। ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কিন্তু প্রায় ২৫ হাজার দর্শকই ধরে। তো তার টিকিট কিন্তু মাত্র চার মিনিট, পাঁচ মিনিট, ছয় মিনিটে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্মাদনা আগের থেকে অনেক বাড়ছে তারা আসাতে। এবং দলও কিন্তু আগের থেকে অনেক উন্নতি করেছে।’
হামজা আসায় দেশের ফুটবলের পালে লাগা এই বাতাসটা ধরে রাখতে হবে। অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার জন্য ধরে রাখাটা জরুরীও।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা