যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেখে ‘হতভম্ভ’ ও ‘স্তম্ভিত’ সিপিডি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কয়েকটি ধারা নিয়ে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির ভাষ্য, চুক্তিটি ‘উচ্চমাত্রায় বৈষম্যমূলক’ এবং তা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কয়েকটি ধারা নিয়ে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির ভাষ্য, চুক্তিটি ‘উচ্চমাত্রায় বৈষম্যমূলক’ এবং তা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।
নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা হতবাক ও বিস্মিত। কীভাবে একটি সরকার এমন চুক্তিতে যেতে পারে, তা বোধগম্য নয়।’
সিপিডির মতে, চুক্তির একাধিক ধারা বাংলাদেশকে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে কার্যত বিরত রাখবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, যদি তৃতীয় কোনো দেশের মালিকানাধীন কোম্পানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাংলাদেশে কমে যায় বা তৃতীয় দেশের বাজারে মার্কিন রপ্তানি হ্রাস পায়, তবে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করলে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা’ নিতে হবে—অর্থাৎ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করতে হবে। মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনার জায়গা যদি একটি থাকে, সেটি এই চুক্তি।’ তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি।
চুক্তিতে স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে কোনো সরকার চাইলে তা থেকে সরে আসতে পারে—এমন একটি ধারা রয়েছে বলে জানায় সিপিডি। পাশাপাশি, এখনো আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন বিনিময় হয়নি। ফলে সরকার চাইলে এখনো চুক্তি থেকে সরে আসার সুযোগ রয়েছে।
সিপিডির সুপারিশ, সরকার যেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তি থেকে সরে আসে এবং উভয় দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে—এমন একটি নতুন বাণিজ্য কাঠামো প্রণয়ন করে। একই সঙ্গে, যেকোনো চুক্তি যেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের কাঠামোর মধ্যেই সম্পাদিত হয়।
এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ উত্তরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সিডিপি। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিও উত্তরণ কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চুক্তির শর্ত মেনে চললে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (স্বাক্ষর, উপযুক্ত উৎস থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা সিপিডির।
এ প্রেক্ষাপটে, সরকারকে অবিলম্বে এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজন হলে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার