প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণেরা: কেউ নিহত, কেউবা নিখোঁজ
ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ। কেউ নিহত হয়েছেন, কেউ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার অনেকে মাসের পর মাস নিখোঁজ রয়েছেন।
ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ। কেউ নিহত হয়েছেন, কেউ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার অনেকে মাসের পর মাস নিখোঁজ রয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা মোহন মিয়াজি তাঁদেরই একজন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে কয়েক মাস যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন তিনি। পরে ছুটির সুযোগে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিয়াজি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ, “চারদিকে শুধু লাশ। গুলি, আর্টিলারি আর ড্রোন হামলার মধ্যে প্রতিটা মুহূর্তে মৃত্যুর ভয় ছিল।” তার এক বন্ধু নোয়াখালীর আশিকুর ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক বাংলাদেশি বিদেশে কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে পরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ সহকর্মী বা পরিচিতদের মাধ্যমে, আবার কেউ দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সেখানে পৌঁছান।
রাজবাড়ীর সাবেক সেনা সদস্য নজরুল ইসলামকে ভালো বেতনের নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। তার স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর জোর করে তাঁকে সেনাবাহিনীতে যোগদানের কাগজে সই করানো হয়। কয়েক মাস পর তাঁর মৃত্যুর খবর পান তাঁরা।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে আরও অনেক পরিবারের। ইকবাল হোসেন নামে এক বাংলাদেশি বর্তমানে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্ত্রী জানান, তাদের বলা হয়েছিল একটি ফার্নিচার কোম্পানিতে চাকরির কথা, যুদ্ধের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
সূত্রগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি নয়—প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয় এবং রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে সই করানো হয়।
‘বিকন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, যারা গেছেন তারা বিষয়টি জেনেশুনেই গেছেন।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে কাজের আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কিছু বাংলাদেশি শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছেন ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংঘাতে—যেখান থেকে অনেকেরই আর দেশে ফেরা হচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা