ইরানে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত, ট্রাম্প বললেন আলোচনা ‘ইতিবাচক’
হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ‘অনুরোধে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ দিকে এগোচ্ছে।
হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ‘অনুরোধে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ দিকে এগোচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত থাকবে। যদিও এর কিছুক্ষণ আগেই বৈঠকে তিনি সতর্ক করেছিলেন—চুক্তিতে না এলে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর ছড়ালেও বাস্তবে আলোচনা ভালো দিকেই এগোচ্ছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘একতরফা ও অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা।
প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে ৬৭ শতাংশ এবং নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের দামও লাফিয়ে উঠেছে।
মাঠের পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন নেই। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তেহরান।
হোয়াইট হাউস বৈঠকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করলে ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। প্রয়োজনে দেশটির তেল খাত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরানের নেতৃত্ব। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষামূলক হলেও কূটনৈতিক পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সংঘাতের প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছায় এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে ট্রাম্পের ‘স্থগিতাদেশ’ ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরলে দিনের শেষে ডলারের দাম বাড়ে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে তেহরান জানিয়েছে, সমন্বয় বজায় রাখলে ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইউরোপের দেশ স্পেনের জাহাজ চলাচলে কিছু শিথিলতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স