২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, খুলে দেওয়া হলো মিসরের রূপ-ঐতিহ্যের ধারক ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’
দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাচীন সভ্যতার জাদুঘর ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। গিজার পিরামিডের পাশে অবস্থিত এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শনিবার (১ নভেম্বর) উদ্বোধন উপলক্ষে মিসরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাচীন সভ্যতার জাদুঘর ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। গিজার পিরামিডের পাশে অবস্থিত এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শনিবার (১ নভেম্বর) উদ্বোধন উপলক্ষে মিসরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
২০০২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থাপত্য নকশা প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিল মিসর সরকার। ১,৫০০-রও বেশি প্রস্তাবের মধ্যে বিজয়ী হয় আয়ারল্যান্ডের ছোট ফার্ম হেনেগান পেং আর্কিটেক্টস। তাদের নকশায় তৈরি এই জাদুঘরের যাত্রা থেমেছে বহুবার—আরব বসন্ত, সামরিক অভ্যুত্থান, মহামারি—সব বাধা পেরিয়ে ২০২৫ সালে এসে শেষমেশ বাস্তব হলো সেই স্বপ্ন।
২ লাখ ৫৮ হাজার বর্গফুটজুড়ে বিস্তৃত এই জাদুঘরে রয়েছে প্রায় এক লাখ প্রাচীন নিদর্শন—প্যাপিরাস, টেক্সটাইল, পাত্র, সারকোফাগাস ও সংরক্ষিত মানব মমি। সময়ক্রম অনুযায়ী সাজানো গ্যালারিগুলো প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে কপটিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘তুতেনখামেন গ্যালারি’, যেখানে তরুণ রাজা তুতেনখামেনের সমাধি থেকে পাওয়া পাঁচ হাজার নিদর্শন একসঙ্গে দেখা যাবে।
প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায় ৩৬ ফুট উঁচু দ্বিতীয় রামেসিসের মূর্তি। বিশাল ছাদের ঢাল ও আলো প্রবেশের অনন্য নকশা ভবনটিকে করে তুলেছে প্রাকৃতিক আলোর এক জীবন্ত প্রদর্শনী। ছয়তলা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা মেলে গিজার মহাপিরামিডের সরাসরি দৃশ্য—যা জাদুঘরটিকে আরও অনন্য করে তোলে।
আর্কিটেক্টস ফার্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রোয়েশিন হেনেগান বলেন, ‘এটি এক দীর্ঘ যাত্রার পরিণতি। এত ঐতিহাসিক নিদর্শন স্থানান্তরে সময় লেগেছে, কিন্তু নিখুঁতভাবে শেষ করতে পেরেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি