রুশ তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের জেরে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়ের আওতায় সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনাবেচা করা যাবে।

Mar 13, 2026 - 14:55
রুশ তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র
১১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্তরাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনাবেচা করা যাবে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের জেরে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়ের আওতায় সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনাবেচা করা যাবে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরপরই শুক্রবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয় এবং দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়েরঅফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলপ্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১২ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনাবেচা পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ছাড় কার্যকর থাকবে ওয়াশিংটন সময় ১১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত।

এর আগে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সময় এখনো আসেনি।

অন্যদিকে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ দাবি করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার তেল অপরিহার্যমার্কিন সিদ্ধান্ত তা কার্যত স্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের সরবরাহ বাড়ালেও এই পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পশ্চিমা কৌশলকে জটিল করে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট