ট্যারিফ, মূল্যবৃদ্ধি ও সুপ্রিম কোর্ট—কোথায় দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ সিদ্ধান্তগুলো এত দ্রুত ও এতবার বদলেছে যে আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য কোন পণ্যে কর আছে, কোনটায় নেই—তা বোঝা কঠিন হয়ে গেছে। ব্রাজিল, চীন, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় সব দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক; কোথাও ৫০%, কোথাও ১০%, আবার কোথাও ব্যতিক্রম। গাড়ি, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কপার—সব সেক্টরেই লেগেছে এই করের ধাক্কা।

Nov 16, 2025 - 20:41
ট্যারিফ, মূল্যবৃদ্ধি ও সুপ্রিম কোর্ট—কোথায় দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ
ছবি: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ সিদ্ধান্তগুলো এত দ্রুত এতবার বদলেছে যে আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য কোন পণ্যে কর আছে, কোনটায় নেইতা বোঝা কঠিন হয়ে গেছে। ব্রাজিল, চীন, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় সব দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক; কোথাও ৫০%, কোথাও ১০%, আবার কোথাও ব্যতিক্রম। গাড়ি, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কপারসব সেক্টরেই লেগেছে এই করের ধাক্কা।

সর্বশেষ পদক্ষেপে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশ দিয়ে গরুর মাংস, কফি, বিভিন্ন মসলা কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক স্থগিত করেছেন। এর ফলে বাজারে কিছুটা চাপ কমার সম্ভাবনা আছে।

সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্পের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কিত শুল্কগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। নভেম্বরের শুরুর দিকে এই মামলা নিয়ে আদালতে শুনানি হয়েছে, যা ছোট ব্যবসাগুলো শক্তিশালী সমর্থকদের সহায়তায় করেছে। তাদের যুক্তি হলোট্রাম্প যে জরুরি আইন দেখিয়েলিবারেশন ডেশুল্ক আরোপ করেছিলেন, তার সেই ক্ষমতা আইনে ছিল না।

তবে সরকারের যুক্তি, বিদেশি বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্প যে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই শুল্কগুলো প্রয়োজন, এবং প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার অনুযায়ীই তিনি এগুলো আরোপ করেছিলেন। আদালতের শুনানির পরের দিন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওভাল অফিসে ট্রাম্প আবারও শুল্ক বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা। আমাদের দেশকে রক্ষার উপায়  এবং  জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয় এই শুল্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

তবে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম কপার খাতে প্রচলিত আইনের অধীনে আরোপ করা ট্যারিফগুলো আদালতের ঝুঁকিতে নেই।

দাম বাড়ছে, চাপে ভোক্তারা

ট্যারিফের কারণে খেলনা, গাড়ি, কফি, কলাবিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ওয়ালমার্ট হোম ডিপোর মতো বড় কোম্পানিও বলছে, শুল্ক পরিশোধের কারণে তাদের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, খুচরা দামের ওপর প্রায় শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই খরচ বহন করছে আমদানিকারক ভোক্তারাই। ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাবের হিসাবে, শুধু ট্যারিফের কারণে একটি আমেরিকান পরিবার বছরে প্রায় ,৮০০ ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তি কোথায় দাঁড়িয়ে

দশকের পর দশকের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অস্থায়ী চুক্তি হলেও চীন কানাডার সঙ্গে আলোচনা অনিশ্চিত। চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রেয়ার আর্থ মিনারেল নিয়ে চুক্তি মাত্র এক বছরের জন্য কার্যকর। কানাডার সঙ্গে আলোচনা ভেঙেছে অন্টারিও সরকারের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে; ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপের।

নতুন ট্যারিফ আসছে

বাণিজ্যিক বিমান, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোবোটিকসআরও কয়েকটি খাত নিয়ে তদন্ত চলছে। এসব সেক্টরে নতুন শুল্ক আরোপ হতে পারে, এবং এসব ট্যারিফ আদালতের চ্যালেঞ্জের বাইরে।

ভোক্তারা কি টাকা ফেরত পাবেন

ভোক্তাদের ট্যারিফ রিবেট পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ট্রাম্প এটি বিবেচনা করলেও প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ব্যয়সাপেক্ষ। ব্যবসায়ীরা আদালতের রায়ে ট্যারিফ আটকে গেলে কিছু ক্ষেত্রে ফেরত পেতে পারেন, তবে সেটিও দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ রিফান্ড দাবি উঠলে তা সামাল দেওয়া সরকারের জন্যবড় বিশৃঙ্খলাহয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্যারিফ নিয়ে আদালত, ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক বাণিজ্যসব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এক অনিশ্চিয়তার সামনে দঁড়িয়ে। ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের রায়, কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রশাসনের পরবর্তী শুল্ক সিদ্ধান্তের ওপর।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট