ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার তীব্র হামলা, নিহত ২

ট্রাম্প–জেলেনস্কি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে কিয়েভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা কার্যত অন্ধকার ও শীতের মধ্যে পড়ে গেছে।

Dec 28, 2025 - 00:36
ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার তীব্র হামলা, নিহত ২
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে রুশ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: বিবিসি

ট্রাম্পজেলেনস্কি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে কিয়েভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা কার্যত অন্ধকার শীতের মধ্যে পড়ে গেছে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কিয়েভের দিনিপ্রোভস্কি জেলায় ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। পাশের শহর বিলাসেরকাতেও আরেকজনের প্রাণ যায়। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য, এক রাতেই প্রায় ৫০০ ড্রোন ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়।

জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকে জানায়, কিয়েভ আশপাশে ১০ লাখের বেশি ঘরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকলেও রাজধানীর বড় অংশে গরমের ব্যবস্থা নেই। জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার নেতৃত্বপ্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনকে আরও বেশি কষ্ট দিতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির আসন্ন বৈঠকের আগে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই এই হামলা। বৈঠকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া শান্তি চায় নাড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রই তার প্রকৃত বার্তা।

ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা

ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এখনো কূটনৈতিক আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে আছে। তবে জেলেনস্কি শুক্রবার কিয়েভে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রণীত শান্তি চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে থাকা ২০ দফা খসড়া নথির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি নির্ভর করবে ট্রাম্পের ওপর—‘তিনি কী দিতে প্রস্তুত, কখন দিতে প্রস্তুত এবং কতদিনের জন্য।

এই সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছরের জন্য একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যা নবায়ন করা যাবে। তবে কিয়েভ আরও দীর্ঘমেয়াদি এবং আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন চুক্তি চায়, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানো যায়।

ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটির চালিকাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রই। পলিটিকোকে তিনি বলেন, ‘আমি অনুমোদন না দিলে তার (জেলেনস্কির) কিছুই করার নেই। দেখা যাক, সে কী নিয়ে আসে।

জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে উভয় পক্ষের একটিঅভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিরয়েছে, যার আওতায় একাধিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা আছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন রোববারের বৈঠক ভালোই হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তিনিযতটা সম্ভব দ্রুতরুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলতে চান।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, ব্লুমবার্গ