জেসমিন ক্রকেটের নিরাপত্তা দলের সদস্য ছিলেন পুলিশের গুলিতে নিহত ‘মাইক কিং’!
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াটের অভিযানে নিহত এক পলাতক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ৩৯ বছর বয়সী ডায়ামন-মাজাইরে রবিনসন, যিনি ‘মাইক কিং’ নামে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াটের অভিযানে নিহত এক পলাতক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ৩৯ বছর বয়সী ডায়ামন-মাজাইরে রবিনসন, যিনি ‘মাইক কিং’ নামে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করতেন।
ডালাস পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে রবিনসনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি একটি হাসপাতালের পার্কিং গ্যারেজে ঢুকে গাড়ির ভেতরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাঁকে বের করা হলে তিনি পুলিশের দিকে অস্ত্র তাক করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিনসন একটি জিএমসি ইউকন গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যাতে চুরি করা সরকারি নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। তাঁর কাছ থেকে মোট ১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যেটি হাতে নিয়ে তিনি পুলিশের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটিও চুরি করা ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, রবিনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত চলছিল। তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে প্রতারণার অভিযোগ ছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ডালাস, ডানকানভিল, আরভিং এবং ডালাস কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে অন্তত সাতবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রবিনসন। এসব ঘটনায় দোষ স্বীকার করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার ডলার জরিমানা ও এক থেকে পাঁচ বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়েছিল।
এত অপরাধমূলক অতীত থাকা সত্ত্বেও তিনি ‘মাইক কিং’ নামে নতুন পরিচয় তৈরি করে নিরাপত্তা খাতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তার পরিচালিত ‘অফ ডিউটি পুলিশ সার্ভিসেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর টেক্সাসের পুলিশ সদস্যদের অফ-ডিউটি নিরাপত্তা কাজে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবসাও চালাতেন তিনি।
সূত্রের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য জেসমিন ক্রকেটের নিরাপত্তা দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক মার্কিন সিনেট নির্বাচনী প্রচারেও তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখেন।
সিবিএস নিউজ টেক্সাসের হাতে পাওয়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রকেটের কাছাকাছি অবস্থান করছেন রবিনসন। সূত্রগুলো বলছে, ডালাসের কয়েকটি হোটেল ও একটি গির্জায় নিরাপত্তা দলের তদারকিও করতেন তিনি।
তবে কীভাবে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, ‘মাইক কিং’ নামে একজনকে গত বছরও নিরাপত্তা সেবার জন্য অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তবে তাকে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি কত পারিশ্রমিক পেতেন, তা স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে জেসমিন ক্রকেটের দপ্তর জানিয়েছে, তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশের কাছ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ