মিনিয়াপোলিসে ‘নাগরিকত্বের প্রমাণ’ চাইছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকায় রাস্তায় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের থামিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিচয়পত্র দেখাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমক্ষে হাঁটা বা অবস্থান করার সময় মার্কিন নাগরিকদের পরিচয়পত্র দেখানো বা নাগরিকত্ব প্রমাণ করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবু এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সোমবার মিনেসোটার কলাম্বিয়া হাইটসে গেজ ডিয়েগো গার্সিয়া নামের এক নাগরিককে ছয় ঘণ্টা আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, কোনো অপরাধ না করলেও কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাঁকে বলপ্রয়োগ করে আটক করা হয়। ঘটনার ভিডিওতে টেজার তাক করে ধরার দৃশ্যও দেখা যায়।
এদিকে মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা নিমকো ওমার বলেন, পাড়ায় হাঁটার সময় হঠাৎ কয়েকজন মুখোশধারী কর্মকর্তা তাঁকে থামিয়ে নাগরিকত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি আতঙ্কিত হয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিওতে তাঁকে পরিচয়পত্র না দিলে গাড়িতে তুলে নেওয়ার হুমকি দিতে শোনা যায় এক কর্মকর্তাকে।
এ ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেওয়া বা গাড়ি চার্জিং স্টেশনে থাকা ব্যক্তিদেরও নাগরিকত্ব নিয়ে জেরা করা হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) অভিযোগগুলোকে ‘ভুল বয়ান’ বলে দাবি করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, কর্মকর্তাদের কাছে ‘যৌক্তিক সন্দেহ’ থাকলে তারা কাউকে থামাতে পারে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে অভিবাসন টহলের ক্ষেত্রে বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে—যা সমালোচকদের মতে বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
হ্যামলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ডেভিড শুলৎজ বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটার সময় আমাদের পরিচয়পত্র বহন বা দেখানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। থামানো হলে শান্ত থাকতে হবে, কেন থামানো হয়েছে জিজ্ঞেস করতে হবে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কি না জানতে হবে।’
ট্রাম্প প্রশাসন মিনিয়াপোলিসে প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা ও এজেন্ট মোতায়েন করেছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামের এক নাগরিক পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর এসব অভিযান আরও বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ