বাংলাদেশের নাদিয়া তাসনিমের ইতিহাস: ওষুধ প্রকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ডক্টরেট
ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ওষুধ প্রকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। চলতি মাসে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন। একই সঙ্গে ভিসিইউতে সদ্য চালু হওয়া দেশের প্রথম এই পিএইচডি প্রোগ্রামেরও প্রথম গ্র্যাজুয়েট তিনি।
ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ওষুধ প্রকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। চলতি মাসে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন। একই সঙ্গে ভিসিইউতে সদ্য চালু হওয়া দেশের প্রথম এই পিএইচডি প্রোগ্রামেরও প্রথম গ্র্যাজুয়েট তিনি।
বাংলাদেশে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পথে থাকলেও গবেষণায় আগ্রহ থেকে নাদিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর গবেষণা দক্ষতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজিতে আরেকটি মাস্টার্স ডিগ্রি নেন।
২০২০ সালে ভিসিইউ’র হাত ধরে ওষুধ প্রকৌশলে পিএইচডি প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। হাতে গোনা কয়েকজন মেধাবীর সাথে অফার পেয়েছিলেন বাংলাদেশের নাদিয়া তাসনিম আহমেদও। ২০২৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করে দুই দেশেই ইতিহাস গড়েছেন নাদিয়া তাসনিম। ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ওষুধ প্রকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেরও প্রথম ডক্টরেট তিনি।
নিজের গবেষণায় নাদিয়া মাস স্পেকট্রোমেট্রি ব্যবহার করে প্রোটিনের পারস্পরিক ক্রিয়া বিশ্লেষণ করেন। তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইম নিয়ে কাজ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগ সিওপিডির সঙ্গে জড়িত প্রদাহ ও টিস্যু ক্ষতির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
ভিসিইউতে পড়াশোনার সময় তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন এবং প্রোগ্রামের প্রথম ‘এক্সেলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড’ পান। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল থিসিস ডিফেন্স সফলভাবে শেষ করে প্রথমবার ‘ড. আহমেদ’ নামে সম্বোধিত হওয়া।
ডিগ্রি অর্জনের পর নাদিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (এফডিএ) ওরাইস ফেলো হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সেখানে তিনি থেরাপিউটিক পণ্যে অপ্রত্যাশিত গঠনগত ভিন্নতা ও অমিশ্রণ শনাক্তে আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।
ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে বিশ্লেষণ বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, গবেষণা ও নতুন সুযোগের জন্য তিনি নিজের পথ খোলা রাখছেন। তাঁর ভাষায়, অর্থবহ অবদান রাখার সুযোগই তাঁর এগিয়ে চলার প্রধান প্রেরণা।
তথ্যসূত্র: ভিসিইউ নিউজ