ভেনেজুয়েলার পর কি গ্রিনল্যান্ড, ট্রাম্পের ইঙ্গিতে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের পর এবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের পর এবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড।
মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রোববার ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আর কোনো চাপ নয়। আর কোনো ইঙ্গিত নয়। দখলের কোনো কল্পনাও নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন গ্রিনল্যান্ডকে ভেনেজুয়েলা ও সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করেন, তখন তা শুধু ভুল নয়, বরং তা গভীর অসম্মানজনকও বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কারাকাস থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মাইল দূরে কোপেনহেগেন। কিন্তু ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে ধারণা, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হেলিকপ্টার অভিযানের অভিঘাত ডেনমার্কের রাজধানীতেও প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। এত দিন ইউরোপে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে অবাস্তব ও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেওয়া হলেও, মাদুরোকে আটকের ঘটনা সেই ধারণায় ফাটল ধরিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা কয়েক মাস ধরেই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। মাদুরো আটক হওয়ার পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। ডেনমার্ক এটা সামলাতে পারবে না।’
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। ইউরোপের অন্য নেতারাও দ্রুত অবস্থান স্পষ্ট করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। ফ্রান্সও ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।
নেটোর সদস্য হওয়ায় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে জোটের সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতি প্রযোজ্য। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন হলে তা নেটোর কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা হবে।
তবে ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও শুল্ক আরোপের হুমকি—দুটোই তাদের হিসাব-নিকাশে রয়েছে। এই নীরবতাকে সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—এ ধরনের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার মতো একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেশের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো আর নেটোভুক্ত দেশের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ—দুটোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের অধ্যাপক পিটার ভিগো ইয়াকবসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের ধারণা এখনো অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তবে মাদুরো আটক হওয়ার পর ইউরোপ বুঝতে পেরেছে, বিষয়টি পুরোপুরি অসম্ভবও নয়।
ইয়াকবসেন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে আরও সামরিক ঘাঁটি বা খনিজ চুক্তির পথেই এগোতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই সংকট আসলে এমন একটি সমস্যা তৈরি করছে, যার অস্তিত্বই ছিল না।’
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ