তেহরানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সাহায্যে’র বার্তা ট্রাম্পের

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে চলমান দমন–পীড়নের মুখে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি ‘সাহায্য আসছে’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন এবং ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিন’ আহ্বান জানিয়েছেন।

Jan 13, 2026 - 21:23
তেহরানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সাহায্যে’র বার্তা ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে চলমান দমনপীড়নের মুখে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনিসাহায্য আসছেবলে আশ্বাস দিয়েছেন এবংআপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিনআহ্বান জানিয়েছেন।

কামঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদেরকাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ডবন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না। তবেসাহায্যবলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকেরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যানআপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিন। হত্যাকারী নির্যাতনকারীদের নাম সংগ্রহ করুন। তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।একই পোস্টে তিনি যোগ করেন, ‘সাহায্য আসছে। মিগা (MIGA)!! মাগা (MAGA)

সাংবাদিকদের প্রশ্নেসাহায্যপ্রসঙ্গে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদেরই এটি বুঝে নিতে হবে।পরে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রখুব কঠোর ব্যবস্থানেবে।

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনার কথা বলেছেন। সোমবার তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নাগরিকদেরএখনই ইরান ত্যাগ করারপরামর্শ দেয়।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এর পরিণতি অনিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ইরানি জনগণ দমনমূলক শাসন বিদেশি আগ্রাসনের মাঝখানে আটকা পড়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটি লিবিয়া, সিরিয়া বা ইয়েমেনের মতো সহিংস বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে।

এদিকে ইরানের বাইরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। বিপরীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা