ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্রেই ডুবেছিল ‘মস্কোভা’—ভুলে স্বীকার করে ফেলল রাশিয়া
দীর্ঘদিন অস্বীকারের পর ভুলবশত রাশিয়া স্বীকার করেছে—ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই কৃষ্ণসাগরে ডুবে যায় তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘মস্কোভা’। তবে স্বীকারোক্তির সেই বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলে আবার আগের সরকারি বয়ানে ফিরে যায় মস্কো।
দীর্ঘদিন অস্বীকারের পর ভুলবশত রাশিয়া স্বীকার করেছে—ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই কৃষ্ণসাগরে ডুবে যায় তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘মস্কোভা’। তবে স্বীকারোক্তির সেই বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলে আবার আগের সরকারি বয়ানে ফিরে যায় মস্কো।
২০২২ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সাত সপ্তাহের মাথায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ‘মস্কোভা’ ডুবে যায়। ইউক্রেন তখন দাবি করে, ‘নেপচুন’ অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়া বরাবরই বলেছিল, এটি অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা।
সম্প্রতি মস্কোর একটি সামরিক আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘মস্কোভা’য় আগুন ধরে এবং সেটিই ডোবার কারণ হয়। স্বাধীন রুশ সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা জানায়, আদালত এক ইউক্রেনীয় নৌ-কমান্ডারের অনুপস্থিতিতে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঘোষণা দেন। ওই কমান্ডার ‘মস্কোভা’ ও আরেকটি রুশ জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘মস্কোভা’ যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরে এবং সেটিই জাহাজ ডোবার কারণ হয়।
এই বিবৃতি আদালতের ওয়েবসাইট থেকে দ্রুত মুছে ফেলা হলেও, তার আগেই মিডিয়াজোনা সেটির কপি সংগ্রহ করে। ওই নথিতে হামলায় অন্তত ২০ জন নাবিক নিহত, ২৪ জন আহত ও আটজন নিখোঁজের কথাও উল্লেখ ছিল—যা রাশিয়া আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘মস্কোভা’ ডোবার সত্য গোপন রাখা রাশিয়ার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আদালতের বিবৃতি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মস্কোর কঠোর তথ্যনিয়ন্ত্রণের আরেকটি উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: সিএনএন