যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি: খতিয়ে দেখা হবে ভ্রমনকারীর ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে এবার পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম চাইতে পারে ওয়াশিংটন। ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্র্যাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ) ফর্মের তথ্য বাড়ানোর এই প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে এবার পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম চাইতে পারে ওয়াশিংটন। ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্র্যাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ) ফর্মের তথ্য বাড়ানোর এই প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।
জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই সীমান্ত নীতিতে আরও কড়াকড়ি আনছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি গত পাঁচ থেকে দশ বছরের ফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানা এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্যও চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে—
‘সেলফ-রিপোর্টেড এক্সিট’: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাসপোর্ট ডেটা, লাইভ সেলফি ও জিওলোকেশন পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের তথ্য নিজেই জানাতে পারবে বিদেশিরা।
সেলফি বাধ্যতামূলক: ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্র্যাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ) আবেদনকারীর জন্য সেলফি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে, এমনকি ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলেও।
ওয়েবসাইট বাদ, মোবাইল-অনলি ইএসটিএ: প্রতারণা ও নিম্নমানের ছবি আপলোড ঠেকাতে ওয়েবভিত্তিক আবেদন তুলে দিয়ে শুধু মোবাইল অ্যাপে আবেদন করার নিয়ম আনা হবে।
বিস্তারিত ডিজিটাল স্ক্রিনিং: গত পাঁচ বছরের সব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট, ১০ বছরের ফোন নম্বর–ইমেইল, আইপি ঠিকানা, এবং সম্ভব হলে আঙুলের ছাপ, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ, ডিএনএ, আইরিস স্ক্যানের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত হতে পারে।
ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রাম আপডেট: রোমানিয়া ইতিমধ্যে তালিকা থেকে বাদ; ভবিষ্যতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিবিপি বলছে, প্রতারণা কমানো, পরিচয় যাচাই জোরদার করা এবং প্রবেশ-প্রস্থান ট্র্যাকিংয়ের দীর্ঘদিনের ঘাটতি দূর করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপানসহ প্রায় ৪০ দেশের নাগরিক মাত্র ৪০ ডলারের ইএসটিএ ফর্ম পূরণ করে ৯০ দিনের জন্য ভিসামুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। নতুন নিয়ম চালু হলে আবেদন যাচাইয়ে আরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে অভিবাসন আইন সংস্থাগুলো।
ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নীতি ভ্রমণকারীদের গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এটি এখনো চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়—জনগণের মতামত গ্রহণের প্রথম ধাপ। প্রেসিডেন্ট নিজে জানিয়েছেন, এতে পর্যটন কমে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর আগেই জানিয়েছিল—ছাত্র ও কর্মী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রোফাইলগুলো ‘পাবলিক’ রাখতে হবে। কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে গত পাঁচ বছরের সব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীনামা না দিলে ভবিষ্যতের ভিসা বাতিলের ঝুঁকির কথাও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প আমলের ভ্রমণ নীতির কড়াকড়ি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা ১৮৪টি অর্থনীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যেখানে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটনের ব্যয় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বর্জনের ধারাবাহিকতাও পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।
নতুন প্রস্তাবটি এখন ৬০ দিনের জনমত সংগ্রহে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে ইএসটিএ আবেদনকারীদের ভ্রমণের আগে আরও বিস্তৃত ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র:ইউএসএ টুডে, বিবিসি