সিটি কর্পোরেশন দিয়ে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছে। কমিশন বলছে, এই তিন সিটির ভোট শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছে। কমিশন বলছে, এই তিন সিটির ভোট শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন, পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। ঢাকা উত্তরের প্রথম সভা ২০২০ সালের ৩ জুন, মেয়াদ শেষ ২০২৫ সালের ২ জুন। চট্টগ্রাম সিটির প্রথম সভা ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে এই তিন সিটিতে দ্রুত ভোট আয়োজনকে জরুরি মনে করছে কমিশন।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমাদের মূল দায়িত্বই নির্বাচন আয়োজন। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এগিয়ে নেওয়া হবে।” নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ঢাকা উত্তর–দক্ষিণসহ ছয় সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকার দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এবং সরকার ও ইসি সে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘যেসব স্থানীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো থেকেই নির্বাচন শুরু হবে। ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটির ভোট আগে হবে।’
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে—এ প্রশ্নে তিনি একে ‘চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন।
নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা মশা নিধন, যানজট নিরসন, রাস্তাঘাট মেরামতসহ নাগরিক সেবায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগ কমাতে ৬০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনুযায়ী, সিটি নির্বাচন দিয়েই স্থগিত থাকা স্থানীয় সরকার কাঠামো সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক