যুদ্ধ শেষ নাকি আরও হামলা, ট্রাম্পের বক্তব্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি

ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার এক দিনের মধ্যেই তাঁর বক্তব্যের সুর কয়েক দফায় বদলে যাওয়ায় যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

Mar 10, 2026 - 12:48
যুদ্ধ শেষ নাকি আরও হামলা, ট্রাম্পের বক্তব্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার এক দিনের মধ্যেই তাঁর বক্তব্যের সুর কয়েক দফায় বদলে যাওয়ায় যুদ্ধের লক্ষ্য সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

সকালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যাওয়া এবং শেয়ারবাজারে ধস নামার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর জন্য আমার কাছে পরিকল্পনা আছে, আপনারা খুশিই হবেন।

পরে সিবিএস দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছে। এই মন্তব্যের পর তেলের দাম দ্রুত নেমে ৯০ ডলারের নিচে চলে আসে।

তবে সন্ধ্যায় আবার ভিন্ন সুর শোনা যায় ট্রাম্পের কণ্ঠে। তিনি বলেন,‘আমরা এখনই একে বিশাল সাফল্য বলতে পারি, অথবা আরও এগিয়ে যেতে পারিআমরা আরও এগিয়েই যাব।অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেযুদ্ধ শেষের পথেথেকেহামলা জোরদারকরার বার্তা দেন তিনি।

একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিযানের পরবর্তী ধাপে ৫০০, ১০০০ ২০০০ পাউন্ডের শক্তিশালী গ্রাভিটি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা তো অভিযানের আসল অংশটি এখনো শুরুই করিনি।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪৮ সেন্ট বেড়ে দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে প্রায় ৯২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং বেকারত্বের হার বেড়ে দশমিক শতাংশে উঠেছে।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জর্জিয়ার একটি বিশেষ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশও বলছেন, তাঁরা ট্রাম্পকে সমর্থন করলেও যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক সংকটকে সমর্থন করেন না। আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শন হ্যারিস তো বলেই দিয়েছেন, ‘আমেরিকানরা এই যুদ্ধ চায়নি, এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একদিকে ট্রাম্প ইরানেরনিঃশর্ত আত্মসমর্পণ নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের কথা বলছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত যুদ্ধ শেষের বার্তাও দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প হয়তো সামরিকভাবে ইরানের নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী ধ্বংসের সাফল্য উদ্যাপন করছেন, কিন্তু এই যুদ্ধের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চড়া মূল্য হয়তো তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট, আল জাজিরা