কুয়েতে তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা দ্বিতীয় দিনের এই হামলায় কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

Mar 20, 2026 - 11:46
কুয়েতে তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: এপি’র সৌজন্যে

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা দ্বিতীয় দিনের এই হামলায় কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার ভোরে ঈদুল ফিতরের সময় চালানো এ হামলায় দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার এই শোধনাগারের কিছু ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে।

এই হামলা ইরানের বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এর আগে ইরানের গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স–এ ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি হামলায় রাজধানী তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যখন দেশটি পারস্য নববর্ষ উদযাপন করছিল। পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্য ইসরায়েল ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এদিকে কাতারের রাস লাফান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা