ইউভালডে থেকে মিনিয়াপোলিস: পৃথক ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও জবাবদিহিতা
ভিন্ন সময়ের আলাদা দুটি ঘটনা। কিন্তু দুটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ও জবাবদিহিতাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একদিকে ২০২২ সালের ইউভালডে স্কুল শুটিং–সংক্রান্ত মামলায় আদালতে নাটকীয় মোড়, অন্যদিকে মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভিন্ন সময়ের আলাদা দুটি ঘটনা। কিন্তু দুটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ও জবাবদিহিতাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একদিকে ২০২২ সালের ইউভালডে স্কুল শুটিং–সংক্রান্ত মামলায় আদালতে নাটকীয় মোড়, অন্যদিকে মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
টেক্সাসের ইউভালডে স্কুলে ২০২২ সালের ভয়াবহ গণগুলির ঘটনায় অভিযুক্ত এক সাবেক স্কুল পুলিশ কর্মকর্তার বিচার ঘিরে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। করপাস ক্রিস্টিতে চলমান ট্রায়ালের দ্বিতীয় দিনে বিচারক এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার আবেগঘন সাক্ষ্য বাতিলের নির্দেশ দেন। সাক্ষ্যদাতা স্টেফানি হেইলের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি থাকায় আইনগত কারণে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানান বিচারক। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এতে ওই শিক্ষিকার কোনো দায় নেই।
এরপর আদালতে সাক্ষ্য দেন রব এলিমেন্টারি স্কুলের আফটার-স্কুল কর্মসূচির তৎকালীন দায়িত্বে থাকা অ্যামি মারিন। তিনি শুটারকে এগিয়ে এসে গুলি চালাতে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন; জুরিদের শোনানো হয় তাঁর করা ৯১১ কল। পরে এফবিআইয়ের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অস্ত্র ও গুলির ক্যালিবার নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। আরেক শিক্ষিকা লিন ডেমিং জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি শিক্ষার্থীদের নিচু হয়ে বসতে বলেন এবং জানালার ভেতর দিয়ে আসা গুলিতে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সক্রিয় শুটার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ থাকার পরও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। ওই হামলায় ১৯ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক নিহত হন। অথচ প্রায় ৭০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা অপেক্ষা করেন; পরে একটি ট্যাকটিক্যাল টিম শুটারকে হত্যা করে।
এই বিচার চলছে এমন এক সময়ে, যখন ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় টেক্সাসের রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিহত নারী শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সাসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতারা বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্ট মিনিয়াপোলিসের মেয়রের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন ভাষা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমস টালারিকো আইসিইর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সাবেক কংগ্রেসম্যান কলিন অলরেড এই ঘটনাকে ‘নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে আইসিইকে ‘বেপরোয়া সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেন।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসে আইসিই সদস্যরা একটি ‘টার্গেটেড অপারেশন’ পরিচালনা করছিলেন। তাদের দাবি, এক নারী গাড়ি ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগোচ্ছিল না। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এই দাবিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ইউভালডে থেকে মিনিয়াপোলিস—এই দুই ঘটনা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সিদ্ধান্ত, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর