মাদুরোকে মুক্ত করে ভেনেজুয়েলায় ফেরানোর দাবি ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সমাজতান্ত্রিক সংগঠনটি দাবি করেছে, মাদুরো দম্পতিকে মুক্তি দিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠাতে এবং তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসাতে হবে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সমাজতান্ত্রিক সংগঠনটি দাবি করেছে, মাদুরো দম্পতিকে মুক্তি দিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠাতে এবং তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসাতে হবে।
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিএসএ শনিবার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেয়। সংগঠনটির দাবি, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব যুদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত আইন—উভয়ই লঙ্ঘন করেছে।
ডিএসএর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট স্বার্থে কাজে লাগানো এবং লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তারা একে ‘মোনরো নীতির নতুন ট্রাম্প সংস্করণ’ বলেও উল্লেখ করে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানায়, অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি এবং সামরিক সরঞ্জামেরও ক্ষতি হয়নি। অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে মাদক পাচার–সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০১৩ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসা মাদুরোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকোর কার্টেলের সঙ্গে যোগসাজশে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই মাদক প্রবাহ রোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তিনি চীনসহ কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেন এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেন।
তবে ডিএসএ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ থাকার কোনো প্রমাণ নেই। সংগঠনটির মতে, এটি আরেকটি ‘রেজিম চেঞ্জ’ যুদ্ধ, যা ইরাক যুদ্ধের মতোই ব্যর্থ হবে এবং লাতিন আমেরিকার জনগণকে আরও দরিদ্র করে তুলবে।
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ডিএসএ সাত দফা দাবি তোলে। এর মধ্যে রয়েছে—মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো, ‘ব্যর্থ মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ বন্ধ করা, অবিলম্বে সামরিক অভিযান প্রত্যাহার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক উপস্থিতি ও সাউথকমের হস্তক্ষেপমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা।
বর্তমানে মাদুরো দম্পতি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ফেডারেল মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন।
এদিকে অভিযানের পর ট্রাম্প একে ‘বিরাট সাফল্য’ বলে আখ্যা দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সক্ষম সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এই অভিযানের বিরোধিতা করে জানান, তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রেজিম পরিবর্তনের রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। তবে ডিএসএর দাবির সঙ্গে তিনি একমত কি না—এ বিষয়ে তাঁর দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযানটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসকে না জানিয়ে হামলা চালানোর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই ট্রাম্পের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন বলেন, মাদুরো শুধু অবৈধ শাসকই নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশাল মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে এবং আইন অনুযায়ী বিচার হবে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ