ট্রাম্পের মামলা প্রত্যাহারের পর ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল গঠন
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড” গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ফাঁস হওয়া ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে আইআরএসের বিরুদ্ধে করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা প্রত্যাহার করার পরই এ ঘোষণা আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড” গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ফাঁস হওয়া ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে আইআরএসের বিরুদ্ধে করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা প্রত্যাহার করার পরই এ ঘোষণা আসে।
সোমবার বিচার বিভাগ জানায়, ট্রাম্প ও তার সহবাদীরা আইআরএসের বিরুদ্ধে করা মামলা, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনে ২০২২ সালের তল্লাশি এবং রাশিয়া-যোগসাজশ তদন্ত সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণের অন্যান্য দাবিও প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে গঠন করা হচ্ছে এই তহবিল, যা সরকারের “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যবহার” বা “ল-ফেয়ার”-এর শিকারদের অভিযোগ শুনে প্রতিকার দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে।
বিচার বিভাগ বলেছে, তহবিলটি এমন একটি “পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া” তৈরি করবে যেখানে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকবে। ২০২৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তহবিল থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে।
নতুন তহবিলের জন্য নির্ধারিত ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলার “ভবিষ্যৎ দাবিদারদের সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের হিসাব” ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই তহবিলের উদ্দেশ্য “ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।” তবে তহবিল গঠনে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
ক্যাপিটল হামলায় জড়িত এবং পরে ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পাওয়া ৬ জানুয়ারির দাঙ্গাকারীরাও এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি “অত্যন্ত সম্মানিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের” নিয়ে গঠিত একটি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন নিয়োগ দেবেন, যারা তহবিল তদারকি করবে। এর মধ্যে একজন সদস্যকে কংগ্রেসের নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে বেছে নেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প চাইলে যেকোনো সদস্যকে অপসারণ করতে পারবেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে “১.৭ বিলিয়ন ডলারের গোপন রাজনৈতিক তহবিল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প এই অর্থ তার মিত্রদের পুরস্কৃত করতে ব্যবহার করতে পারেন, যার মধ্যে ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত প্রায় ১,৬০০ জনও থাকতে পারে।
কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জো নেগুস একে “এই প্রশাসনের সবচেয়ে নির্লজ্জ দুর্নীতির উদাহরণগুলোর একটি” বলে মন্তব্য করেছেন। আর মেরিল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান জেমি রাসকিন একে “প্রতারণা ও প্রকাশ্য লুটপাট” বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্তর্বর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “কোনো আমেরিকানের বিরুদ্ধে সরকারের কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” তিনি দাবি করেন, বিচার বিভাগ অতীতে হওয়া “অন্যায়” সংশোধন করতে চায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
এই মামলায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বড় দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বাদী ছিলেন। সোমবার আদালতে দাখিল করা নথিতে তারাও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানান।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ও তার পরিবার আইআরএস এবং ট্রেজারি বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, সাবেক এক আইআরএস কর্মী তাদের গোপন ট্যাক্স রিটার্ন ফাঁস করলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প মামলা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন এম. উইলিয়ামস মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট সব সময়সীমা বাতিল করেন।
এর আগে আদালত, প্রেসিডেন্ট নিজেই যেহেতু বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন, সে ক্ষেত্রে এই মামলায় প্রকৃতপক্ষে “স্বার্থসংঘাতমুক্ত বিরোধ” রয়েছে কি না-তার ব্যাখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনকে দিতে বলেছিল। কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ আদালতে মত দেন, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করা “অভূতপূর্ব” এবং এতে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫