ইরান যুদ্ধের মাঝেই কিউবা ‘দখলের’ হুমকি ট্রাম্পের

Mar 17, 2026 - 17:02
ইরান যুদ্ধের মাঝেই কিউবা ‘দখলের’ হুমকি ট্রাম্পের
বিদ্যুতের প্রয়োজনে দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো সারতে হাভানার বাসিন্দাদের এখন সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ছবি: এপি’র সৌজন্যে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কিউবাকেদখলকরার ইঙ্গিত দিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, কিউবাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়াঅসম্ভব কিছু নয়’, বরং এটি হতে পারেসম্মানের বিষয়

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এই মন্তব্যকে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম গোলার্ধে চাপ বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করারমাল্টি-ফ্রন্টকৌশল অনুসরণ করছে ওয়াশিংটনএমন ধারণা বিশ্লেষকদের।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কিউরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে; দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, খাদ্য চিকিৎসা সংকট। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কিউবাকেদুর্বল রাষ্ট্রউল্লেখ করে বলেছেন, তিনি চাইলে দেশটির সঙ্গেযেকোনো কিছু করতে পারেন

একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এটি সরাসরি সামরিক অভিযান নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশলএমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কিউবার বর্তমান সংকটের পেছনে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াও বড় কারণ। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে রাশিয়া কিউবার পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পেরদখলমন্তব্য মূলত কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা। তবে এই অবস্থান বিশ্বকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করছেন তারা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স