শান্তির ‘সবচেয়ে কাছাকাছি’ ইউক্রেন-রাশিয়া: জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তির বিষয়ে তিনি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘অনেক কাছাকাছি, সম্ভবত খুব কাছাকাছি' পৌঁছেছেন। রোববার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তির বিষয়ে তিনি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘অনেক কাছাকাছি, সম্ভবত খুব কাছাকাছি' পৌঁছেছেন। রোববার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প এটাও স্বীকার করেছেন, আলোচনা এখনো জটিল পর্যায়ে রয়েছে এবং যে কোনো সময় তা ভেঙে পড়লে যুদ্ধ আরও বহু বছর গড়াতে পারে।
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার এক ফোনালাপের কথা জানান ট্রাম্প, যাকে তিনি ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেন। এই আলোচনার পরই জেলেনস্কিকে আতিথ্য দেন তিনি। যদিও একই সময় ইউক্রেনে নতুন করে রুশ হামলা চলছিল, তবুও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, পুতিন এখনো শান্তি চান।
বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া চায় ইউক্রেন সফল হোক।’ তিনি জেলেনস্কিকে একাধিকবার ‘সাহসী’ নেতা হিসেবে প্রশংসা করেন। জেলেনস্কিও ট্রাম্পের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইউক্রেন শান্তির জন্য প্রস্তুত।’
দনবাস ও নিরাপত্তা—সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন
দুই নেতা স্বীকার করেন, শান্তি আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা রয়ে গেছে পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল এবং ভবিষ্যতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। রাশিয়া বর্তমানে যে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, তা তারা রাখতে পারবে কি না—এই প্রশ্ন এখনো মীমাংসিত নয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুবই কঠিন একটি ইস্যু, তবে আমি মনে করি এর সমাধান হবে।’ জেলেনস্কির ভাষায়, দনবাস নিয়ে কিয়েভ ও মস্কোর অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন, আর সেখানেই মূল জট।
বৈঠকের পর ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলোচনায় ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের নেতারা। জেলেনস্কি জানান, জানুয়ারিতে আবার ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প—সম্ভবত হোয়াইট হাউসে।
আবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি আবারও পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপটি ছিল ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও ব্যবসায়িক’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দনবাসসহ বিতর্কিত বিষয়ে ‘পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’ চাইলে কিয়েভকে সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
উশাকভের মতে, দনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে সংঘাত থামানো কঠিন হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
‘কয়েক সপ্তাহেই’ স্পষ্ট হবে ফলাফল
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেঙেও পড়তে পারে। ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা বুঝে যাব—এটা হবে কি হবে না,’ বলেন তিনি। তার ভাষায়, শান্তি পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত, যেখানে ছোট একটি বিষয়ও পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের মধ্যে খসড়া শান্তি পরিকল্পনা আদান-প্রদানের ফলে অগ্রগতি হয়েছে। জেলেনস্কি আগেই জানিয়েছিলেন, আলোচনায় থাকা ২০ দফা খসড়া প্রস্তাব প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত।
এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটোর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এমন নিশ্চয়তা পেলে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন স্থগিত রাখতেও প্রস্তুত।
পুতিনের দাবি ও বাস্তবতা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রকাশ্যে বলেছেন, দনবাসের চারটি অঞ্চল ও ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি চান ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা পরিত্যাগ করুক এবং সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করুক। কিয়েভ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ধীরে ধীরে অগ্রগতি দাবি করছে। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, সব পক্ষই শেষ পর্যন্ত শান্তির পথেই হাঁটতে চায়।
প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্পের ভাষায়, ইউক্রেন ও রাশিয়া অন্তত শান্তির সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে—যেখানে সামান্য অগ্রগতি ইতিহাস বদলে দিতে পারে, আবার সামান্য ব্যর্থতায় যুদ্ধ গড়াতে পারে আরও দীর্ঘ সময়।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫