স্বাধীন কমিশন নিয়ন্ত্রণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়াতে পারে সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রসারিত করে স্বাধীন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তাদের ‘কারণ ছাড়াই’ বরখাস্তের অধিকার দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে। বেশিরভাগ বিচারপতি ৯০ বছরের পুরোনো নজির বাতিলে আগ্রহী মনে হয়েছেন—যে নজির বর্তমানে এসব কর্মকর্তাকে নির্বিচারে অপসারণ থেকে রক্ষা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রসারিত করে স্বাধীন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তাদের ‘কারণ ছাড়াই’ বরখাস্তের অধিকার দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে। বেশিরভাগ বিচারপতি ৯০ বছরের পুরোনো নজির বাতিলে আগ্রহী মনে হয়েছেন—যে নজির বর্তমানে এসব কর্মকর্তাকে নির্বিচারে অপসারণ থেকে রক্ষা করে।
মামলাটি এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সদস্য রেবেকা কেলি স্লটারকে অপসারণের চেষ্টা থেকে। ১৯৩৫ সালের ‘হাম্প্রিস এক্সিকিউটর’ নামের রায় অনুযায়ী, এফটিসিসহ বহু স্বাধীন কমিশনের সদস্যদের অপসারণ করা যায় শুধু দায়িত্বে গাফিলতি, অদক্ষতা বা অসদাচরণের অভিযোগে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই সীমাবদ্ধতা সংবিধানের ক্ষমতার বিভাজনের নীতি লঙ্ঘন করে। স্বাধীন সংস্থাগুলো যেহেতু কার্যত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাই সেসব কর্মকর্তাকে যেকোনো কারণে বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকা উচিত। অন্যদকে স্লটারের আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, এসব সুরক্ষা কংগ্রেসের দেয়া, এবং এগুলো বাতিল হলে বহু সংস্থা ও কমিশনের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
শুনানিতে তিন লিবারেল বিচারপতি সতর্ক করেন, ট্রাম্পের পক্ষে রায় গেলে সরকারি কাঠামোয় “অরাজকতা” তৈরি হতে পারে—কর বিভাগ থেকে শুরু করে সিভিল সার্ভিস পর্যন্ত বহু প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিপরীতে কনজারভেটিভ বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কীভাবে প্রেসিডেন্টের অপসারণ ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
সরকারের আইনজীবী ‘হাম্প্রিস এক্সিকিউটর’-কে “ভুল” ও “ঝুঁকিপূর্ণ নজির” আখ্যা দিয়ে একে বাতিলের আহ্বান জানান। স্লটারের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, দুই শতকের ইতিহাস বলছে—স্বাধীন কমিশনের সদস্যদের জন্য সীমিত অপসারণ-সুরক্ষা আমেরিকান প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠিত অংশ।
মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে—এবং এর রায়ের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্পসহ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরা স্বাধীন এজেন্সিগুলোর ওপর কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। রায় দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ