কাবুল–কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলা, আলোচনায় বসতে চায় তালেবান

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর উত্তেজনা চরমে। তবে যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে তালেবান সরকার।

Feb 27, 2026 - 22:46
কাবুল–কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলা, আলোচনায় বসতে চায় তালেবান
আফগানিস্তানের কাবুলে পাকিস্তানি হামলার পর আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর উত্তেজনা চরমে। তবে যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে তালেবান সরকার।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শুক্রবার জানান, কাবুল, কান্দাহারসহ একাধিক শহরে পাকিস্তান বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তীব্র বিস্ফোরণের পর আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যায় এবং কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায়।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানবিরোধী উগ্রবাদীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান বাহিনীর আগের হামলার জবাবেই তালেবানের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, তাদের হামলায় ২৭৪ জন তালেবান কর্মকর্তা যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান বলছে, তাদের অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত। তবে উভয় পক্ষের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পাকিস্তান ১২ সেনা নিহতের কথা স্বীকার করেছে; আফগানিস্তান জানিয়েছে, তাদের ১৩ যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর মুখপাত্র অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তালেবানকেসন্ত্রাসী গোষ্ঠীহিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, আফগান ভূখণ্ড যেন সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি না হয় তা নিশ্চিত করা উচিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস- দুই দেশকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ কড়া ভাষায় বলেন, ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, এটি প্রকাশ্য যুদ্ধ।তবে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘ইসলামি আমিরাত সব সময় সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়। এখনও আমরা আলোচনাতেই আগ্রহী।

হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে কাতার। তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, আফগানিস্তানের প্রায় কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত বিস্তৃত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স