ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত মানবে না এমআইটি, অর্থের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারাই প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি অর্থায়নের বিনিময়ে প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারাই প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি অর্থায়নের বিনিময়ে প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল।
শুক্রবার শিক্ষাবিভাগ বরাবর লেখা এক চিঠিতে এমআইটির প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথ জানান, প্রশাসনের প্রস্তাবিত চুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন সীমিত করবে। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব নির্ভর করে স্বাধীন চিন্তাভাবনা আর উৎকর্ষতা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ওপর। সে মুক্ত মঞ্চে এমআইটির শিক্ষার্থীরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে প্রতিযোগিতা করে, কোনো বিশেষ সুবিধার প্রয়োজন হয় না। তাই সম্মান রেখেই বলছি, আমরা প্রস্তাবিত এই পন্থা সমর্থন করতে পারছি না।’
ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে ৯ টি বড় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব পাঠায়। এতে অর্থায়নের বিনিময়ে একাধিক শর্ত মানার কথা বলা হয়, যার মধ্যে ছিল—ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের লিঙ্গ-পরিচয়ের ভিত্তিতে বাথরুম বা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা, এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আমেরিকান নাগরিক শিক্ষা (সিভিকস) কোর্স চালু করা।
এ ছাড়া চুক্তিতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আগামী পাঁচ বছর দেশীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি স্থিতিশীল রাখতে হবে। বিনিময়ে তারা সরকারি অনুদান, হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ‘বিশেষ সুবিধা’ পাবে।
ট্রাম্প প্রশাসরে প্রস্তাবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ ও একাডেমিক স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করে এমআইটি। তবে শিক্ষা বিভাগ এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্প সরকারের প্রস্তুাবিত চুক্তি এবং তা এমআইটি-এর প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বনাম রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ