যুদ্ধ ঠেকাতে ছাড় দিয়েই গ্রহনযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক পথে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল—এমনই দাবি করেছে দ্য গার্ডিয়ান। ব্রিটিশ এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের শেষ দফার আলোচনায় তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছিলেন ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল। যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শেষ দফার আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

Mar 18, 2026 - 14:20
যুদ্ধ ঠেকাতে ছাড় দিয়েই গ্রহনযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান
ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল। ছবি: আনাদোলু

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক পথে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলএমনই দাবি করেছে দ্য গার্ডিয়ান। ব্রিটিশ এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রইরানের শেষ দফার আলোচনায় তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবকেঅপ্রত্যাশিত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছিলেন ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল। যিনি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে শেষ দফার আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হওয়া ওই আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল এবং যুদ্ধ এড়ানোর মতো ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু আলোচনার দুই দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার পথকে থামিয়ে দেয়।

সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার স্টিভ উইটকফ অংশ নিলেও তাঁদের কারিগরি দক্ষতা নিয়ে সংশয় ছিল। কারণে ব্রিটিশ পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞসহ উপস্থিত ছিলেন পাওয়েল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসিকেও কারিগরি সহায়তার জন্য যুক্ত করা হয়।

ব্রিটিশ কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো, ভবিষ্যতে তা না বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে এসব বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়।

তবে মূল বিরোধ তৈরি হয় সময়সীমা নিয়ে। ইরান যেখানে থেকে বছরের বিরতিতে রাজি ছিল, সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ১০ বছরের স্থগিতাদেশ দাবি করে। এরপরই আলোচনার গতি থেমে যায়।

প্রতিবেদন বলছে, ইরান একটি অর্থনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছিল, যেখানে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

ব্রিটিশদের মূল্যায়ন ছিল, কূটনৈতিক পথ তখনো খোলা ছিল এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণও ছিল না। প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকেঅকালপক্ববলে দেখেছে লন্ডন, যা দুই মিত্র দেশের সম্পর্কেও চাপ তৈরি করে।

এদিকে জেনেভা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। তবে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় নিজেদের ভূমিকা বা পাওয়েলের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়।

(দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপিত)