মৃত্যুর কয়েক মাস পর এলো ইমিগ্রেশন চিঠি

ডালাসের এক আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক কেন্দ্রে বন্দিদের বহনকারী ভ্যানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মারা যান মিগুয়েল গার্সিয়া। এর কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী স্টেফানি গফেনি পেয়েছেন স্বামীর নামে আসা ইমিগ্রেশন চিঠি। আর এই চিঠি ছিল আনুষ্ঠানিক অভিবাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন।

Dec 22, 2025 - 12:19
মৃত্যুর কয়েক মাস পর এলো ইমিগ্রেশন চিঠি
পরিবারের সঙ্গে মিগুয়েল গার্সিয়া। তিনি পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার পরই তাঁর নামে এসেছে ইমিগ্রেশন চিঠি। ছবি: ফক্স ফোর

ডালাসের এক আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক কেন্দ্রে বন্দিদের বহনকারী ভ্যানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মারা যান মিগুয়েল গার্সিয়া। এর কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী স্টেফানি গফেনি পেয়েছেন স্বামীর নামে আসা ইমিগ্রেশন চিঠি। আর এই চিঠি ছিল আনুষ্ঠানিক অভিবাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন।

কিন্তু যাঁর নামে এলো আমেরিকায় বসবাসের অনুমোদনপত্র, তিনি তখন ধরণী ছেড়ে না ফেরার দেশে। খাম খুলে চিঠিটি পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন গফেনি। বলেন, ‘চিঠিটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি কাঁদতে শুরু করি।তাঁর ভাষায়, ওই চিঠি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে অপূরণীয় ক্ষতির যন্ত্রণাযে জীবনটা তাঁরা একসঙ্গে গড়ছিলেন, তা হঠাৎ করেই থেমে গেছে।

কিশোর বয়স থেকেই একসঙ্গে ছিলেন মিগুয়েল গার্সিয়া স্টেফানি গফেনি। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। চার সন্তানের এই পরিবারে সবচেয়ে ছোট সন্তান মাইলসের জন্ম হয় গার্সিয়ার মৃত্যুর মাত্র তিন দিন পর।

গত সেপ্টেম্বরে ডালাসের আইসিই আটক কেন্দ্রে বন্দিদের বহনকারী একটি ভ্যানে বন্দুকধারীর হামলায় গুলি লাগে তিন বন্দির। কর্তৃপক্ষ জানায়, এক ব্যক্তি স্নাইপার হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে। গুলিবিদ্ধদের একজন ছিলেন মিগুয়েল গার্সিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মারা যান।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিডব্লিউআই) অভিযোগ আনা হয়েছিল।

স্বামীর অতীতের ভুল স্বীকার করলেও গফেনি বলেন, গার্সিয়া নিজের জীবন বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছুই এখন বদলে গেছে।

গার্সিয়ার মৃত্যুর আগে পরিবারটি টেক্সাসের আর্লিংটনে একটি নতুন বাড়িতে উঠেছিল। গফেনির ভাষায়, নতুন বাড়িতে প্রথম বড়দিন উদ্যাপন করার ব্যাপারে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন তাঁর স্বামী। কিন্তু সেই আনন্দ আর আসেনি।

চার সন্তানকে নিয়ে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিদিনই স্বামীর শূন্যতা অনুভব করছেন গফেনি, ‘সবকিছুই ওর কথা মনে করিয়ে দেয়। এতদিন একসঙ্গে থাকার পর ওকে ছাড়া জীবনে অভ্যস্ত হওয়া খুব কঠিন।

শিশুদের কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর, ‘ওরা খুব কষ্টে আছে। বাবাকে ভীষণ মিস করে। ক্রিসমাস আসছেআমি জানি নাকথা শেষ করতে গিয়ে থেমে যান তিনি।

নিহত ব্যক্তির নামে কীভাবে এমন একটিঅনুমোদনপত্রপাঠানো হলো নিয়ে আইসিই কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

তথ্যসুত্র: ফক্স ফোর