গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য; ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ স্পষ্ট হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানাতে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপের একাধিক দেশের সেনা পৌঁছাতে শুরু করেছে।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ স্পষ্ট হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানাতে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপের একাধিক দেশের সেনা পৌঁছাতে শুরু করেছে।
ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইডেনের সেনারা প্রতীকী সংখ্যায় গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন হচ্ছে। বুধবার ডেনমার্ক জানায়, তারা দ্বীপটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে। ঠিক সেদিনই ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যে ইউরোপীয় সেনা পাঠানো শুরু হয়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ রয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা এখনো স্পষ্ট, তবে সংলাপ চলবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, প্রথম দফায় ফ্রান্সের প্রায় ১৫ জন সেনা নুক শহরে পৌঁছেছেন। জার্মানি বৃহস্পতিবার ১৩ সদস্যের একটি রিকনিস্যান্স দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোলস লুন্ড পোলসেন বলেন, লক্ষ্য হলো ‘আরও স্থায়ী’ সামরিক উপস্থিতি গড়া, যেখানে ডেনমার্কের অবদান বাড়বে এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো রোটেশন পদ্ধতিতে অংশ নেবে।
ডেনমার্ক জানায়, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। ইউরোপীয়দের এই সমন্বিত উপস্থিতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে—ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, আলাদা কোনো দখল প্রয়োজন নেই।
গ্রিনল্যান্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও আলোচনার ধারাবাহিকতা ও ইউরোপীয় সমর্থন দৃশ্যমান হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিও আছে। নুকের বাসিন্দারা বলেন, প্রথম বৈঠক হয়েছে—এটাই ইতিবাচক, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে। অনেকে ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্রদের সেনা মোতায়েনকে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন।
২১ বছর বয়সী মায়া মার্টিনসেন বলেন, নর্ডিক দেশগুলোর সহায়তা ‘আশ্বাসের’। তাঁর মতে, বিতর্কটি জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গ্রিনল্যান্ডের অনাবিষ্কৃত তেল ও খনিজ সম্পদকে ঘিরে।
ওয়াশিংটন বৈঠকের পর ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে। রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়েও ডেনমার্কের ‘রেড লাইন’ সম্মান করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পোলসেন এটিকে ‘সঠিক পথে একটি ধাপ’ বললেও সতর্ক করে বলেন, ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
গ্রিনল্যান্ডের এমপি আকি-মাটিল্ডা হোয়েগ-ডাম বলেন, গ্রিনল্যান্ড এখন আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার রূপান্তরের এক ‘কেন্দ্রবিন্দু’। তবে সামরিক কার্যক্রম যেন স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি না হয়—সে অনুরোধও জানান তিনি।
এদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখা যাক, কী হয়। কিছু একটা সমাধান হবে বলেই মনে করি।’
তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ